হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয়নি : র‌্যাব

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩৭ এএম

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ব্যবহার করে সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধে আকাশ থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করা হয়নি। বরং বিভিন্ন ভবনে আটকে পড়া সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছে র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এ তথ্য জানিয়েছেন।

সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনা প্রতিরোধে আকাশ থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গ্যাসগান ও সাউন্ড গ্রেনেড ফেলা হয়। তবে এ ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে হেলিকপ্টার দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করার অভিযোগে তথ্য ছড়ানো হয়। এ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র‌্যাব। সংবাদ সম্মেলনে মুনীম ফেরদৌস বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা গত ১৮ জুলাই সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ শাটডাউন কর্মসূচি কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও নাশকতার মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও দেশের আপামর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব ফোর্সেস রাজধানীসহ সারা দেশে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনকারী র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ওপর দুষ্কৃতকারী ও নাশকতাকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মধ্যযুগীয় কায়দায় অতর্কিত হামলা চালায়। এ হামলায় শতাধিক র‌্যাব সদস্য আহত হন। এ সময় দুর্বৃত্তরা কোমলমতি শিশু-কিশোরদের আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাস্তা অবরোধ করে এবং ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যেতে বাধা সৃষ্টি করে। শিশু-কিশোররা সামনে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকে। নিরুপায় হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচলের পথ সুগম করার জন্য এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন ও ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে র‌্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার থেকে কোনো ধরনের গুলি করা হয়নি বা কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত