নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস না করেও আবার নিজস্ব বসতবাড়ি থাকা সত্ত্বেও একাধিক নতুন ঘর পেয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। এ নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে নতুন ঘর না পাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। একই সঙ্গে আবাসন নিয়ে তারা এক রকম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তমেজ (৭৫) ও তার ছেলে সামরুল (৫০) আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস করার কারণে ঘর পেয়েছেন তমেজের শ্যালক মকছেদ ও সামরুলের ছেলে রাব্বি। আবার তমেজের কন্যার ছেলে টিটুও আশ্রয়ণ প্রকল্পে নতুন ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী আরেক ব্যক্তি সমসের আলী (৬৫), নিজের বসতবাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরেই থাকেন। এরপর ছেলে নয়ন ও মোহনের নামে দুটি ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দ্বিতীয় ধাপে বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের সালাইনগর এলাকায় পুরনো আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ সিআইসিট ব্যারাকের স্থলে সেমিপাকা একক গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৪০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ১ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত ১১ জুন এগুলোও হস্তান্তর করা হয়। এরপরই উঠে আসে এসব অনিয়মের তথ্য।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসা অন্তঃসত্ত্বা শরিফা বেগম (৩২) জানান, স্বামী ও এক সন্তান নিয়ে তার পরিবার। পুরনো ঘর ভেঙে নতুন ঘরনির্মাণ হওয়ার কারণে তিনি অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন।
তিনি আরও জানান, অন্যের জমিতে ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরেই রোদবৃষ্টিতে দিনযাপন করছেন। অন্যরা যখন একই পরিবারে অনেকগুলো ঘর পাচ্ছেন, সেখানে কিছুদিন পর যে শিশু ভূমিষ্ঠ হবে তার ভবিষ্যতের কথা একটি বারও কেউ চিন্তা করল না।
আক্কাস আলী (৫৫) জানান, তিনি ১৮ বছর ধরে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকতেন। দেনায় পড়ে ঢাকায় চলে যান। পূর্বের ব্যারাকে তার ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেওয়া ঘর ছিল। ঢাকা থেকে ৩ বছর আগে এসে দেখেন তার ঘরে অন্য লোক উঠেছে। কদিন থাকার কথা বলে এখন সে ঘর ছাড়ছে না। ঘরের কাগজ থাকার পরও তিনি ঘর পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী আয়েশা (৫০) জানান, তার এক সন্তান নিয়ে ১৮ বছর যাবৎ এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করছেন। তার নামেও ঘর বরাদ্দ হওয়ার কথা থাকলেও তিনি ঘর পাননি। অনেকে এখানে আগে থেকে বসবাস না করে বাইরে থেকে এসেও ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। যারা সত্যিকারের বসবাসকারী তারাই যেন এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পান এই দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিমুল ইসলাম বলেন, ঘর হস্তান্তর বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, তিনি নায়েবকে পাঠাবেন ঘটনাটি দেখার জন্য এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনামিকা নজরুল বলেন, যাদের পূর্বের ঘরসহ ৯৯ বছরের লিজ দেওয়া থাকে তারা নতুন ঘর পাওয়ার কথা। যাদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের বের করে দেওয়া বেআইনি হবে। যদি গৃহহীন থেকে থাকে তাদের বরাদ্দের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। তিনি নতুন যোগদান করেছে তাই যারা বরাদ্দের দায়িত্বে ছিলেন তারা এ বিষয়ে বলতে পারবেন।
