রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কোটা আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদের পরিবারকে সাড়ে ৭ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুরের পীরগঞ্জে নিহত আবু সাঈদের মা-বাবার হাতে সাড়ে ৭ লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
চেক নেওয়ার সময় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার সাঈদকে তো আর ফিরে পাব না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই প্রতিদিন আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফোন দিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। পরিবারের এক সদস্যকে চাকরির বিষয়েও আশ্বস্ত করেছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাঈদের এক সহপাঠী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে সংঘটিত মর্মান্তিক দৃশ্যটি সারা দেশ দেখেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অবহেলা ও দুর্বলতাও দেশবাসী দেখেছে। তবে তার পরিবারকে সহায়তা করায় আমাদের কষ্ট কমছে। আবু সাঈদকে হত্যার যথার্থ বিচার যেন দেশবাসী দেখতে পারে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেদিনের মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের ব্যথিত করছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পরিবারকে সাহায্য করছি, আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে আশা করি। ভিসি স্যারও সাঈদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘সেদিনের সংঘর্ষ ও আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। দ্রুত আরও সিদ্ধান্ত আসুক এ কামনা করি।’
আবু সাঈদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আবু ছালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুুদুর রহমান, প্রক্টর মো. শরিফুল ইসলাম, বেরোবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান ম-ল আসাদ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিউল আজম খান, বেরোবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ফিরোজুল ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ টি জি এম গোলাম ফিরোজ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. খায়রুল ইসলাম ও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ম-ল প্রমুখ। গত ১৬ জুলাই কোটা আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বেরোবি কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ।
