দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়নের শালধর এলাকায় মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় নিম্মাঞ্চল। মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ২০০ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে ফেনী পৌর শহরের বেশিরভাগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে এসব সড়কে বসবাসকারী বাসিন্দা ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা হাবিব শাপলা স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাত দিয়ে জানান, শুক্রবার ২টার দিকে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পরামর্শে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে।
তবে নদীর পানি বিপৎসীমার ২০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ভূঁইয়া। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পরামর্শে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার হাসান জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে এক মাস আগে বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছিল। সেগুলোর মেরামত চলা অবস্থায় আজ শুক্রবার সকালে বেড়িবাঁধ আবার ভেঙে যায়। বৃষ্টি বন্ধ হলে এবং নদীর পানি কমলে ভাঙনের স্থান আবার মেরামত করা হবে।
তলিয়ে গেছে ফেনী শহরের বেশিরভাগ সড়ক
দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে ফেনী পৌর শহরের বেশিরভাগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে এসব সড়কে বসবাসকারী বাসিন্দা ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।
শহর ঘুরে দেখা গেছে, ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক, মিজান রোড, একাডেমি রোড, শাহীন একাডেমি, রামপুর, তাকিয়া রোড, আবু বক্কর সড়ক, শাহীন একাডেমি রোড, ফেনী বড় বাজারে বিভিন্ন গলি, বারাহীপুর এলাকায় বিভিন্ন সড়ক, মহিপাল চৌধুরী বাড়ি সড়ক, পাঠান বাড়ি রোডসহ বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
এসব সড়কে চলাচল করা অনেক সিএনজি অটোরিকশার সাইলেন্সারে পানি প্রবেশ করে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেছে। আব্দুর রহমান নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেন, রাস্তায় যাত্রী পারাপার করতে গিয়ে সিএনজিতে পানি প্রবেশ করে গাড়িটি বন্ধ হয়ে যায়। ধাক্কাতে ধাক্কাতে অনেক কষ্টে গাড়ি গ্যারেজে নিতে হয়েছে। এভাবে অনেক চালক সমস্যায় পড়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টিতেও ফেনী পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা পানি নিষ্কাশনে বাধা অপসারণের কাজ অব্যাহত রেখেছে। জানতে চাইলে ফেনী পৌরসভার কনজার্ভেটিভ অফিসার সরোয়ার আলম বলেন, শুধুমাত্র ৩০ জন পরিচ্ছন্নকর্মী শহরের বিভিন্ন খাল পরিস্কারের কাজ করছে। ৩০ জন শহরের বিভিন্ন ড্রেন পরিস্কারে কাজ করছে। পানি নেমে যাওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, টানা বৃষ্টি হলে শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিছে তলিয়ে যায়। এছাড়াও মরিচ পট্টি, মুডি পট্রি, সওদাগর পট্টি, খাজা আহমেদ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বসে থাকে পানি নেমে গেলে দোকান খুলে। বর্ষা এলে মাঝে মাঝে এ দুর্ভোগ লেগে থাকে।
ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রনব কুমার শীল জানান, প্রতি বছর বৃষ্টিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে স্টার লাইন কাউন্টার পর্যন্ত সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। এ স্থানটিতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এ সকল হাসপাতালে রোগী আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে জানতে ফেনী পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী জানান, পৌরসভার সকল কাউন্সিলরের তত্ত্বাবধানে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিরলস কাজ করা যাচ্ছে। পৌরসভার নাগরিকরা পলিথিন থেকে শুরু করে সব ময়লা ড্রেনে ফেলার কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া দুইদিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় পানি নামতে সময় লাগছে। বৃষ্টি কমলে দু’ঘণ্টায় সকল পানি নেমে যাবে।
মাটিতে পুঁতে রাখা যুবককে উদ্ধার করল একদল কুকুর