যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে (৯/১১) সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে গত বুধবার সমঝোতা চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই ঘোষণার দুই দিন পর এবার গতকাল শুক্রবার চুক্তিটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।
মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার শর্তে মার্কিন পেন্টাগনের সাথে সমঝোতা চুক্তিতে রাজি হয়েছিল খালিদ ও তার দুই সহযোগী। বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার দুই সহযোগীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির কথা জানায়। এ ঘোষণার পরই ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্যক্তির স্বজনদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে শুক্রবার এক স্মারকে লয়েড অস্টিন বলেছেন, চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সামরিক আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকা কর্মকর্তার ক্ষমতা বুধবার তিনি বাতিল করে দিয়েছেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুসান এসকালিয়ারের উদ্দেশে অস্টিন লিখেছেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে প্রাক-বিচার চুক্তির সিদ্ধান্তের দায়ভার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে তার ওপরই বর্তাবে। আমি আপনার কর্তৃত্ব (ক্ষমতা) প্রত্যাহার করছি। আমার ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনটি প্রাক-বিচার চুক্তি থেকে সরে এসেছি, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বুধবার হোয়াইট হাউসের তরফে দাবি করা হয়েছিল, প্রাক-বিচার চুক্তিতে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সেই হামলায় নিউ ইয়র্ক, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভেনিয়ায় প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর জের ধরে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তান ও ইরাকে শুরু হয় অভিযান।
১৯৪১ সালে হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের পার্ল হারবারে জাপানি হামলার পর ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাতে বিবিসি লিখেছে, দুই যুগ আগের সেই হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাদের স্বজনদের কাছে কৌঁসুলিরা চিঠি পাঠানোর পর প্রাক-বিচার চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ পায়।
কিউবার গুয়ানতানামো বেসামরিক ঘাঁটিতে বেশ কয়েক বছর ধরে খালিদ এবং দুই সহযোগীকে আটক রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো বছরের পর বছর ধরে বিচারপূর্ব অবস্থায় আটকে আছে। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, খালিদ শেখ মোহাম্মদ, ওয়ালিদ বিন আতাশ এবং মুস্তফা আল-হাওসাউয়ির সঙ্গে মার্কিন সরকারের একটি চুক্তি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, এ সন্দেহভাজনেরা তাদের দোষ স্বীকার করবেন। আর এর বিনিময়ে তাদের এমন মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে রেহাই মিলবে, যে মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারত। সাবেক আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সবচেয়ে আস্থাভাজন ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিত খালিদ।
বাংলাদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল দূতাবাস