শ্রীপুরে দা ছুরি নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪, ০৩:৩০ পিএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনেই উত্তাল সারা দেশ। চলমান পরিস্থিতিকে ঘিরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন স্থানে।

এক দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা মিছিল স্লোগান দিচ্ছে অন্যদিক সরকার দলীয় অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমীকলীগের নেতা কর্মীরা সকাল থেকে মাঠে নেমেছে আন্দোলন প্রতিহত করার মিশন নিয়ে। রোববার সকালে শ্রীপুর বাজার ও মাওনা চৌরাস্তায় কয়েক দফা লাঠিসোঁটা লোহার রড দা ছুরি নিয়ে মিছিল মিছিল করে তারা।

মাওনা চৌরাস্তায় দুপুর ১২ টার দিকে যুবলীগ মিছিল বের করলে আন্দোলনরত উত্তেজিত ছাত্ররা তাদের ধাওয়া করে। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মাওনা এলাকায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো এলাকা ছাত্ররা তাদের দখলে নেয়।

এ দিকে গতকাল (শনিবার) মাওনা এলাকায় দিনব্যাপী চলে ব্যাপক ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ। দুপুরের পর আশেপাশের এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে পরে। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে।  দুপক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। এক সময় ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা পুলিশ বক্সে ও পুলিশের ৪টি গাড়িতে আগুন দেয় ।

পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ারসেল ছোড়ে। রাবার বুলেটে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এক সময় ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা পাশের একটি মার্কেটে ঢুকে পার্কিং করা বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করে।

এ সময় ছবি তুলতে গেলে আন্দোলনকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সংবাদকর্মীদেরও ধাওয়া করেছে। পরে সংবাদ কর্মীরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে। এরপর তারা বকুলতলায় গিয়ে মাওনা হাইওয়ে থানায় যানবাহনে আগুন দেয়। থানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা নিরুপায় হয়ে থানার কলাপসিবল গেট আটকে ভিতরে অবস্থান নেয়।

আজ রোববার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফের আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায়। মাওনা ফ্লাইওভারের সামনে মাওনা হাইওয়ে অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করে তাঁরা। পরে যুবলীগ নেতা মোরছালিন মামুন ও জাহিদুল আলম রবিন অফিস ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা। তবে আজ মাঠে কোনো পুলিশ চোখে পড়েনি।

এদিকে আজ মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাহিরে বের হচ্ছেন না। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কেও কোনো যানবহন চোখে পড়েনি সকাল থেকে।

এ দিকে আজ দুপুর (৪ আগস্ট) সাড়ে ১২ টার দিকে শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয়ের নেতৃত্বে নৈরাজ্য বিরোধী মিছিল বের করা হয়। শ্রীপুর জামতলা আ.লীগ অফিসের সামনে পথসভা শেষ করে আ.লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল বের করা হয়। এ সময় বিভিন্ন ইউনিটের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

তাদের দাবি আন্দোলনের নামে মানুষের জানমালের ক্ষতি করছে জামাত বিএনপি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুলিশের গাড়ি থানা ভাঙচুর করছে হামলাকারীরা। আন্দোলনের আড়ালে জামাত বিএনপি তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার মিশনে নেমেছে।

এদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আকবর আলী খান বলেন, ‘শ্রীপুর বাজার এলাকা আপাতত শান্ত রয়েছে। চৌরাস্তাসহ আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। পুলিশ তার প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সর্বদায় সতর্ক রয়েছে।‘

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত