দেশ জুড়েই চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ছাত্র-জনতার চাপের মুখে ক্ষমতাছাড়া হয়েছে হাসিনা সরকার। এর পর থেকেই দেশ জুড়ে শুরু লুটতরাজের। হাসিনা সরকার পতনের পর ছাত্রসমাজ এবার ফুটবল ফেডারেশন থেকে সরাতে চাচ্ছে চার মেয়াদের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ তিন কর্মকর্তাকে। সালাউদ্দিন ছাড়াও সমর্থকরা ‘লাল কার্ড’ দেখিয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং মঙ্গলবার ভেঙে দেওয়া দ্বাদশ সংসদের সদস্য সালাম মুর্শেদী ও নারী ফুটবল কমিটির আলোচিত চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তারকে। আসছে অক্টোবরে বাফুফের নির্বাচনে এই তিন বিতর্কিত কর্মকর্তা যাতে আবারও অংশ নিতে না পারেন, আর যাতে তারা ফুটবলকে ধ্বংসের খেলায় লিপ্ত হতে না পারেন সেই নিশ্চয়তা চেয়ে অরক্ষিত বাফুফে ভবনের সামনে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেছেন ফুটবল সমর্থকদের আলোচিত সংগঠন বাংলাদেশি ফুটবল আলট্রাস। উপস্থিত সমর্থকদের দাবি, এদের কারণেই দেশের ফুটবল ক্রমশ নিম্নমুখী। এদের হাত থেকে মুক্তি পেলে ঘুরে দাঁড়াবে দেশের ফুটবল।
মঙ্গলবার মানববন্ধন ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে বাফুফে ভবনের প্রধান ফটকের সামনে উপস্থিত হন একঝাঁক সমর্থক। যাদের অনেকেই চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনার ছিলেন। যাদের একজন বাংলাদেশি ফুটবল আলট্রাসের সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম সাগর। আন্দোলন চলাকালে মাথায় ছররা গুলিও লেগেছে এই তরুণের। তবে নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে সরকারবিরোধী এক দফা আন্দোলনে অংশ নিয়ে সফলতা পেয়েছেন। সেই তারুণ্যের শক্তিতেই ফুটবলকে রাহুমুক্ত করার প্রতিজ্ঞা করেছেন সাগর, ‘ফুটবলটা এই মানুষগুলোর হাতে ভীষণভাবে অনিরাপদ। তারা কখনই ফুটবলের উন্নতির কথা ভাবেননি। দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে থেকেও দেশের ফুটবলের ভাগ্য ফেরাতে পারেননি। আমরা আন্দোলন করে যখন সরকার পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি, চাইলে একইভাবে সালাউদ্দিন, সালাম, কিরণদেরও পতন ঘটাতে পারি। তবে সেটা এখনই আমরা করতে চাই না। তাতে ফিফার নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। আমরা ফুটবলকে ভালোবাসি বলেই কোনো ধরনের ক্ষতিকারক কোনো কিছু করতে চাই না। আমরা চাই এই তিন বিতর্কিত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ফুটবল থেকে সরে যাক। যদি নাও সরেন, তারা যাতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেই নিশ্চয়তা আমাদের কাছে তাদের দিতে হবে। সেটা যদি তারা না করেন, তবে আমরা শক্ত অবস্থানে যেতে বাধ্য হব এবং সেটা দেশের ফুটবলের স্বার্থেই।’
সমর্থকদের এই সংগঠনের সদস্যরা গ্যালারিতে সরব উপস্থিতির মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন ফুটবল অঙ্গনে। আলট্রাস সোমবার রাতে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছে বাফুফেকে। মঙ্গলবার গোটা দিন তারা নানা মাধ্যমে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি বলেই মানববন্ধন ও দেয়াল লিখনের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
