জামায়াতের আমির বললেন

এ যুদ্ধের মহানায়ক শহীদ আবু সাঈদ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৪, ০৭:১৮ এএম

অন্তরে আগুনের জ্বালা সাড়ে ১৫ বছরের নির্যাতনের জ¦ালা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এই সাড়ে ১৫ বছরে ৩২টি ঈদ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। খুন গুম হত্য ধর্ষণ, লুণ্ঠন সীমাহীন নির্যাতন জুলুম গোটা জাতির শ্বাস বন্ধ করে দিয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে গত ৫ তারিখ মানুষকে শ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিয়েছে। একে প্রথমেই বলছি বাংলাদেশের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধের মহানায়ক আপনাদের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ। গতকাল বুধবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের সমন্বয়ক শহীদ আবু সাঈদের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আমাদের কলিজার টুকরো যুবসমাজ যারা আত্মত্যাগ করেছে, পঙ্গু হয়েছে, দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। যারা নিহত হয়েছে তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি। তিনি বলেন, আমার পক্ষ থেকে আমার দলের পক্ষ থেকে আবু সাঈদের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমরা এসেছি তার মা বাবার মুখ দেখতে। আমরা এসেছি তার আপনজনের মুখ দেখতে। সেই গর্বিত সন্তান যে জাতিকে মুক্তির পথ দেখানোর জন্য হাত দুটো পাখির ডানার মতো দুদিকে দিয়ে বুক চেতিয়ে বলেছিল বুকের ভেতর তীব্র জ্বালা তোদের ইচ্ছে হলে আমার বুকে গুলি কর।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, আপনাদের অভিনন্দন। যুব সমাজকে অভিনন্দন। তোমাদের প্রতি অনুরোধ ছেড়ে দিওনা জাতিকে। তীক্ষè চোখ দিয়ে রাখো জাতিকে আগামীতেও যেন কেউ স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে। আগামীর বাংলাদেশ যেন হয় স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ। জুলুম মুক্ত বাংলাদেশ। ইনসাফের বাংলাদেশ। জাতির এ ক্লান্তিলগ্নে বিপদে-আপদে আমরা যেন আপনাদের পাশে থাকতে পারি আমাদের দোয়া করবেন।

তিনি এ সময় আবু সাঈদের কবরের পাশে বাবা মকুল হোসেনের কপালে চুমু খেয়ে কোলাকুলি এবং বাবা ও ভাইদের সঙ্গে নিয়ে কবর জিয়ারত করেন। পরে বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত