পরিকল্পনামতো চলছে না যুদ্ধ!

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৪, ১১:৩২ পিএম

ইউক্রেনে রাশিয়ার পুরোদস্তুর আগ্রাসনকে ক্রেমলিন ধরে নিয়েছিল একটি সংক্ষিপ্ত, শাণিত সামরিক অভিযান হিসেবে। এই অভিযান মাত্র কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যাবে কিংবা প্রতিবেশী দেশটির ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ করায়ত্ত করতে খুব বেশি হলে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে ক্রেমলিন আশা করেছিল। তবে সেটি হয়নি। প্রায় আড়াই বছর আগে শুরু হওয়া যুদ্ধের পরিধি ক্রমেই বাড়ছেই। মস্কো যা ভেবেছিল, যুদ্ধ মোটেও সেভাবে এগোয়নি। তারপরও অনেক সময়ই গত ২৯ মাস ধরে রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রায়ই দাবি করতে শোনা গেছে যে, অভিযান পরিকল্পনামতোই চলছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সর্বশেষ এমন দাবি করেছিলেন গত মে মাসে। যদিও যুদ্ধের আগের দুই বছরে রণক্ষেত্রে ব্যাপক রুশ সেনা হতাহত, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার একাধিক যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস, রাশিয়ার অনেক ভেতরে এমনকি ক্রেমলিনেও ড্রোন হামলা, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রুশ শহর-গ্রামে তীব্র গোলা হামলা, রুশ ভাড়াটে সেনা দল ওয়াগনারের বিদ্রোহ এবং মস্কোর দিকে তাদের পদযাত্রা হতে দেখা গেছে। এত সবকিছুর পর এবার এ তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুর্স্ক অঞ্চলে আচমকা ইউক্রেনের সেনা ও কিয়েভপন্থি যোদ্ধাদের ঢুকে পড়ে হামলার ঘটনা।

বিবিসি নিউজের ব্রিটিশ সাংবাদিক স্টিভ রজেনবার্গের মতে, কুর্স্কে ইউক্রেনের এই অনুপ্রবেশই দেখিয়ে দিয়েছে যে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিকল্পনামতো চলছে না।

রাশিয়ার কর্মকর্তারাসহ ইউক্রেনের সেনা কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার কিয়েভ শত শত সেনাকে সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ এবং ড্রোন সুসজ্জিত করে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্স্ক অঞ্চলে পাঠিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে রুশ সেনাদের তীব্র লড়াইও হয়েছে। গত বুধবার নিয়ে টানা দুদিন অঞ্চলটিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের যোদ্ধারা এই লড়াইয়ের পর সুজ্জা শহরের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে ইউরোপে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের একমাত্র পাম্পিং স্টেশনটি আছে এই সুজ্জায়। ফলে এই শহরের পতন হলে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে।

বিবিসি বলছে, কুর্স্কের সুজ্জায় এ মুহূর্তে ঠিক কী ঘটছে তা জানা কঠিন। কতজন ইউক্রেনের সেনা সেখানে আছেন, কতটা ভূখ- তাদের দখলে গেছে আর তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যই বা কী তা স্পষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার দৈনিক নেজাভিসিমায়া গেজেটাতে কুর্স্কের ঘটনাবলী ধোঁয়াশায় ঢাকা বলা হয়েছে।

তবে সাংবাদিক স্টিভ রজেনবার্গ তার বিশ্লেষণে বলেছেন, ধোঁয়াশার মধ্যেও কিছু জিনিস স্পষ্ট আছে। তার মতে, এটি স্পষ্ট যে, কুর্স্ক অঞ্চলে যা ঘটছে তাতে রাশিয়ার যুদ্ধ যে ‘পরিকল্পনামতো চলছে না’ সেটিই আরও বেশি করে প্রমাণিত হয়।

সেখানে ঘটে যাওয়া সব ঘটনায় রাশিয়ার রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতারা বিস্মিত হয়েছেন বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে মস্কো যে তা স্বীকার করবে সেটি আশা করা যায় না।

রাশিয়ার যা করার সম্ভাবনা বেশি সেটি হচ্ছে, কুর্স্কে ইউক্রেনের হামলাকে রুশ জনগণের সামনে এভাবে চিত্রিত করা যে, এই সংঘাতে রাশিয়া আগ্রাসনকারী নয় বরং রাশিয়া হচ্ছে শত্রু দিয়ে ঘেরাও হয়ে যাওয়া একটি দুর্গ। যে শত্রুরা রাশিয়ায় আগ্রাসন চালিয়ে একে ধ্বংস করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে।

অথচ বাস্তবে রাশিয়াই প্রতিবেশী ইউক্রেনে সর্বাত্মক আগ্রাসনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। রাশিয়ার তখনকার আর এখনকার বলা কথার মধ্যে স্পষ্টতই বড় ধরনের পার্থক্য আছে।

২০২২ সালে ইউক্রেন সীমান্তপারে রাশিয়া তাদের সেনা পাঠানোর সময় ক্রেমলিন বলেছিল, তারা সেখানে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করছে। সেখানকার শহর, গ্রামগুলোকে স্বাধীন করার দাবি করেছিল তারা। আর এখন রাশিয়ায় ঢুকে পড়ে ইউক্রেনের সেনাদের হামলাকে মস্কো বলছে সন্ত্রাসী হামলা, উসকানি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত