সড়কে শৃঙ্খলায় কঠোর শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৪:০২ এএম

শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণই নয়, এবার সড়কের আইন মানাতে কঠোর হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুপস্থিতিতে সন্দেহজনক গাড়ি চেকও করছেন তারা। গত তিন দিনের মতো গতকাল শুক্রবারও ঢাকাসহ সারা দেশে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে গত সোমবার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর জনরোষে থানা ছাড়েন পুলিশ সদস্যরা। এর দুই-তিন দিন আগে থেকে সড়কে দায়িত্ব পালন ছেড়ে দেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে। এরপর রাজধানীর ২৯টিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ফিরতে শুরু করেছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে গতকালও রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়নি।

গতকাল শিক্ষার্থীরা সড়কে সিগন্যাল চালু ও বন্ধ ছাড়াও পথচারীদের ফুটপাতে চলাচল নিশ্চিত, ট্রাফিক আইন মানানো, সন্দেহভাজন গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স চেক করেন। কোনো ত্রুটি পেলে ভর্ৎসনার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখেন। মোটরসাইকেল আরোহীর হেলমেট না থাকলে রাস্তার পাশে ১৫ থেকে ২০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখছেন শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীতে গতকাল যান চলাচল কম থাকলেও সড়কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাস স্টপেজে ১০ থেকে ১৫ জনের দল তৈরি করে কাজ করেছেন তারা। রাজধানীর উত্তরা, কুড়িল, প্রগতি সরণি, মগবাজার, শান্তিনগর, পল্টন, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, মিরপুর ও বাংলা মোটরসহ বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীরা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিমন বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কয়েকটি টিম করেছেন। গত তিন দিনের মতো আজ (গতকাল) সকাল থেকে প্রগতি সরণি এলাকায় কয়েকটি টিম করে কাজ করেছেন তারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ ট্রাফিক আইন মানতে অভ্যস্ত না। আমরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি একটা ক্যাম্পেইনও করছি। যাতে মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার মানসিকতা সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশ ফিরে এলেও মাঝেমধ্যে এই ক্যাম্পেইন অব্যাহত রাখা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত