ভারতে আবারও হিন্ডেনবার্গ তীর

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৪, ১২:৩১ এএম

এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আঠারো মাস আগে তোপ দাগার পরে ফের সংবাদের শিরোনামে মার্কিন শর্ট সেলিং ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ ফার্ম হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এবার তীর ছুড়েছে দেশটির সব সংস্থার নিয়ন্ত্রক কর্র্তৃপক্ষ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার (সেবি) চেয়ারপারসন মাধবী পুরী বুচ এবং তার স্বামী ধবল বুচের দিকে। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ দাবি করছে, ২০১৫ সালের ৫ জুন সিঙ্গাপুরের আইপিই প্লাস ফান্ড-১ এ মোটা অঙ্কের লগ্নি করেন তারা। অবশ্য এই প্রতিবেদন বা অভিযোগ কোনো কিছুরই সত্যতা যাচাই করতে পারেনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। 

গত শনিবারই সকালে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ জানায়, ভারতের জন্য নতুন কিছু আসছে। এক এক্স পোস্টে সংস্থাটি বলে, ‘শিগগিরই বড় কিছু, ভারত। শুধু এক লাইনের এই পোস্ট করার পর ভারতে আবারও শোরগোল পড়ে যায়। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বিশ্লেষণ করার চেষ্টা শুরু করে দেয় আসলে হিন্ডেনবার্গ আবার কী প্রকাশ করবে। এর মধ্যে রাতে খবর পাওয়া যায় সেবি প্রধানকে নিয়ে। গত বছরের ২৪ জানুয়ারি গৌতম আদানির প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপের প্রতারণা নিয়ে চাঞ্চল্যকর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে হিন্ডেনবার্গ। সেখানে বলা হয়, দশককাল ধরে শেয়ার কারসাজি এবং আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা চালিয়ে আসছে আদানি গ্রুপ। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই আদানি গ্রুপের সব কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়তে শুরু করে; সেই পতন দীর্ঘদিন অব্যাহত ছিল। ওই দরপতনে কয়েক হাজার কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ খোয়ান গৌতম আদানি। কিন্তু হিন্ডেনবার্গের প্রতিবেদনে সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়।

এবার সেবি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে এলো নতুন অভিযোগ। হিন্ডেনবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুচ দম্পতি বারমুডা এবং মরিশাসের কিছু ফান্ডে বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া ধবল বুচের নামে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশ মালিকানাই মাধবী পুরী বুচের।

হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে পদের অপব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে মাধবী এবং ধবলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়েছে, আদানির সঙ্গে যোগ থাকায়, তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সেবি-কে নরম মনোভাব নিতে ‘প্রভাবিত’ করেছেন মাধবী। একই সঙ্গে পদের প্রভাব খাটিয়ে হিন্ডেনবার্গ কর্র্তৃপক্ষকে শোকজ-এর নোটিস পাঠিয়েছেন। যদিও সেবি কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত