প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে পুরো দেশেই নেমে আসে অস্থিরতা। এরমধ্যে প্রায় ১৪ দিনেরও বেশি সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিল। শুধু তাই নয়, গেল দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেশে অস্থিরতার পরিমাণ বেশি থাকায় শোবিজ পাড়ায় কাজ বন্ধ ছিল বলাই যায়। দেশের পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্বাভাবিক হলেও নির্মাতারা এখনো শুটিংয়ে ফিরতে ভরসা পাচ্ছেন না বলেই খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
দেশ জুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় ইতিমধ্যেই বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েছে ফেসবুক-ইউটিউব কেন্দ্র করে নির্মাণ করা নাটক সংশ্লিষ্টরা। মুক্তি আটকে গেছে বহু নাটকের, সেই সঙ্গে শঙ্কার মেঘ জমে উঠেছিল সংশ্লিষ্টদের মনে। শঙ্কা কাটলেও যেন সহসাই ফিরতে পারছেন না অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরমধ্যে হাতেগোনা কিছু নির্মাতা শুটিং শুরু করলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব একটা স্বস্তি পাচ্ছেন না। এছাড়া বেশিরভাগ নির্মাতাই বেকার বসে আছেন ঘরবন্দি হয়ে।
প্রযোজক আকবর হায়দার মুন্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি তো এখনো অস্থিতিশীল। কোনোকিছুই স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। এখনো দেশে ডাকাতি, রাহাজানি, চুরি চলছে; মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এগুলো দেখে এখনো কাজ শুরু করার জন্য মাইন্ড সেট আপ করতে পারিনি। নাটক যেহেতু ক্রিয়েটিভ কাজ, এগুলো আসলে একটু ঠা-া মাথায় করতে পারলে ভালো হয়। আমরা তো কমার্শিয়ালি কাজ করি না, দর্শকের জন্য কাজ করি। তাদের মনোরঞ্জন দেওয়া, সেই সঙ্গে নাটকের মাধ্যমে দর্শককে একটা বার্তা দেওয়া। ভালো জিনিস দর্শকের কাছে পৌঁছানোর জন্য দেশের একটু স্থিতিশীল অবস্থা জরুরি। আমরা পরিকল্পনা করছি, দেখা যাক হয়তো শিগগিরই শুটিং শুরু করব।’
নাট্যনির্মাতা মাহমুদুর রহমান হিমি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে দেশে এখন একটা অস্থির সময় চলছে। আমরা যারা নির্মাতারা আছি অস্থিরতার মধ্য দিয়েই যাচ্ছি। নিরাপত্তার একটা বিষয় তো আছে। এই মুহূর্তে শুটিং শুরু করাটা ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় একটা অঘটন ঘটে যেতে পারে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে না নামা পর্যন্ত কাজ করাটা খুব কঠিন হয়ে যাবে। আমরা সবাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি।’
রুবেল হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে দেশে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। সবকিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা তো কাজে নামতে পারছি না। তাছাড়া অনেক শিল্পীই এখন দেশের বাইরে রয়েছেন, এখনো দেশে ফেরেননি। দেশে যারা আছেন তাদের নিয়ে যে কাজ শুরু করব সে রকম পরিস্থিতিও দেখতে পাচ্ছি না। নিরাপত্তার ব্যাপার আছে। দেশের রাস্তায় এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামেনি। এখনো ছাত্ররা রাস্তায় আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচল না হওয়া পর্যন্ত কেউই সাহস পাচ্ছে না কাজে নামার। কেউই ঝুঁকি নিতে চান না। চাই সবকিছু দ্রুত ঠিক হয়ে যাক এবং আমরা আবারও আগের মতো কর্মমুখর পরিবেশ দেখতে পাব।’
রাফাত মজুমদার রিংকু বলেন, ‘এখনো তো দেশের পরিস্থিতি সেভাবে স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। এরমধ্যেই শুনলাম দুয়েকজন নির্মাতা কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু আমরা এখনো শুরু করতে পারিনি। পুরোদমে কাজ শুরু হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সবাই এখন পরিকল্পনা করছে কাজ শুরু করার।’
