রেল-মেট্রোয় সুসংবাদ

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৪, ১২:১১ এএম

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৮ জুলাই মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরদিন মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়। পরে ২০ জুলাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক। তখন তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন দুটি মেরামত করে পুনরায় চালু করতে ১ বছরের মতো সময় লাগতে পারে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১১ আগস্ট ডিএমটিসিএল সূত্র বলেছিল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মেট্রোরেলের কোচ, লাইন ও সংকেত ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনের টিকিট বিক্রি ও যাত্রীদের ভাড়া আদায় সংক্রান্ত ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টেশনের কন্ট্রোল রুমের সব কম্পিউটার ভাঙচুর হয়েছে। টিকিট কাউন্টারের কম্পিউটার চুরি হয়েছে। টিভিএম মেশিন ভাঙচুর, পিজি গেইট ভাঙচুরসহ যাত্রীদের তথ্য জানানোর ডিজিটাল ডিসপ্লে ভাঙচুর হয়েছে। এ দুটি স্টেশন বাদ দিয়ে বাকি ১৪ স্টেশনের মধ্যে মেট্রোরেল যেকোনো সময় চালু সম্ভব।

গত ২৯ জুলাই জানা গিয়েছিল মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশন পুনরায় চালু করতে ৬ মাস থেকে ১ বছর লাগবে। এ বিষয়ে সোমবার দেশ রূপান্তরে ‘এক সপ্তাহের মধ্যে চালু মেট্রোরেল লোকাল ট্রেন কাল, আন্তঃনগর চলবে ১৫ আগস্ট’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 

‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে গত ১৮ জুলাই দুপুরে ঢাকার মহাখালী ও নাখালপাড়া এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন দুপুর ১২টার পর ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন রেল কর্র্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। আবার সরকার পতনের দিন থেকে কর্মবিরতিতে আছেন ডিএমটিসিএলের ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা। তাদের দাবি মেনে নিলেই মেট্রোরেল চালুতে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন এসব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রাজধানীবাসী জানতে উদগ্রীব ছিলেন কবে চালু হচ্ছে মেট্রোরেল? জানা গেল, মেট্রোরেলের চাকা আবার ঘোরার প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। পুরোদমে চালুর আগে পরিস্থিতি যাচাই-বাছাইয়ে সপ্তাহ জুড়ে মেট্রোরেল পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর প্রস্তুতি চলছে। কয়েকদিন এভাবেই চলবে। ট্রায়াল রান শেষ হলেই, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়া শেষে, সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার চালু হবে মেট্রোরেল। অন্যদিকে গতকাল থেকে চালু হয়েছে মালবাহী ট্রেন। আজ থেকে  মেইল/এক্সপ্রেস/লোকাল/কমিউটার ট্রেন এবং ১৫ আগস্ট থেকে আন্তঃনগর ট্রেন পর্যায়ক্রমে চলাচল করবে। তবে পারাবত ও জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ট্রেন দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিগত সময় দেখেছি অনেক স্টেশন বন্ধ রেখে মেট্রোরেল চালু করা হয়েছিল। যে স্টেশনগুলো ক্ষতি হয়েছে, সে স্টেশনের সরঞ্জামগুলো যেখান থেকে আনা হয়েছিল, সেখানে সে ডিজাইন অবশ্যই পাওয়া যাবে। কারণ এখনো মেট্রোরেলের পুরো কাজ শেষ হয়নি। তাই মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা যদি থাকে, তাহলে এক বছরের কথা যে শোনা যাচ্ছে দুটি স্টেশন ঠিক হতে, এত সময় লাগার কথা নয়।’ তিনি আরও বলেন, মেট্রোরেলের যে দুটি স্টেশনে সমস্যা সেগুলোও ধীরে ধীরে চালু করা সম্ভব। প্রয়োজনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টিকিট কেটে সে স্টেশনগুলোও চালু করা যেতে পারে। সব রুটে মেট্রোরেল চালু হলে রাজধানীবাসী যানজটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে। কর্মঘণ্টা বাঁচার ফলে অর্থনীতিতে নতুন দুয়ার যুক্ত হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকলে, ঢাকার অনুষঙ্গ হিসেবে মেট্রোরেল বিশেষভাবে কাজ করবে। একইসঙ্গে দেশব্যাপী রেল যোগাযোগ পুরোদমে শুরু হলে, দেশব্যাপী আবার দেখা দেবে প্রাণচাঞ্চল্য। যাত্রীদের ভোগান্তি কমুক, যানজট থেকে মুক্তি পাক রাজধানীবাসী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত