ইরানের শর্ত, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৪, ০২:০৮ এএম

ইরানের রাজধানী তেহরানে গত মাসের শেষের দিকে হামলা চালিয়ে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার ঘটনার পর থেকে ইরান-ইসরায়েলের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বারবার হামলার হুমকি দিয়ে আসছে তেহরান। ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানে গিয়েছিলেন হানিয়া।

হামাসপ্রধান হানিয়াকে হত্যার পেছনে ইসরায়েলের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে তেহরান। এ অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি ইসরায়েল। ইতিমধ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। আর চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েলে ইরান আক্রমণ করতে পারে বলে জানিয়েছে পশ্চিমারা। তবে ইরান বলেছে, তারা হামলা চালাবেই, যদি না ইসরায়েল দ্রুত গাজায় যুদ্ধবিরতির কার্যকর না করে।

এদিকে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের কাছে দুই হাজার কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এসব অস্ত্রের মধ্যে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। অবশ্য এখনই এই অস্ত্রগুলো ইসরায়েলের হাতে যাচ্ছে না। এগুলো পেতে ইসরায়েলকে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে।

গতকাল পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ওই অনুমোদন দিয়েছেন। যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও যন্ত্রপাতি, ৭৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের ট্যাঙ্ক কার্তুজ, ৬ কোটি ডলারের বেশি বিস্ফোরক মর্টার কার্তুজ এবং ৫৮ কোটি ডলারের সাঁজোয়া যান রয়েছে।

বোয়িংয়ের কাছ থেকে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলো কেনা হবে। যেগুলো নির্মাণ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে। ২০২৯ সাল থেকে সেগুলো সরবরাহ শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অন্য সরঞ্জাম ২০২৬ সাল নাগাদ পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র এবং বৃহৎ অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। গাজাযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটি ইসরায়েলকে সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র গাজা যুদ্ধে ব্যবহার করছে ইসরায়েল।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিই শুধু ইরানকে ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে পারেÑ এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। একটি সূত্র (ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা) জানান, যদি গাজা নিয়ে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে হিজবুল্লাহর মতো মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালাতে পারে ইরান। কিংবা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আলোচনা বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হলেও এমনটা হতে পারে। অবশ্য সরাসরি হামলা চালানোর আগে আলোচনা কতক্ষণ বিলম্বিত হওয়াকে ইরান আমলে নেবে, সেটা জানায়নি সূত্রগুলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত