আন্দোলনে তরুণদের অভিজ্ঞতা

আমার বন্ধুর বুকে দুটো গুলি লাগে

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৪, ০৩:৫৫ এএম

‘১৮ জুলাই আন্দোলনে গিয়ে আমার বন্ধুর বুকে দুটো গুলি লাগে। পরদিন আমি তার বাড়িতে যাই, তাকে কবর দিয়ে আসি।’ কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ। বাংলাদেশ রিডসের প্রতিষ্ঠাতা মিঠুন দাস কাব্য জানান, তরুণদের নিয়ে তার বই পড়া কার্যক্রমের একজন নিয়মিত সদস্য আকরাম হোসাইন কাওসারকে হারানোর কথা। গতকাল বুধবার সকালে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই তরুণদের কথায় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন সবাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত দেশের নানা প্রান্তের তরুণ-তরুণীদের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে ভাবনা জানার জন্য ২৫ জনকে নিয়ে এ সভা আয়োজন করে এমজেএফ।

জলবায়ুভিত্তিক তরুণ সংগঠন ব্রাইটারসের চেয়ারপারসন ফারিহা সুলতানা অমি বলেন, সাধারণ মানুষও আন্দোলনে সমর্থন দেয়। অভিভাবকরা খাবার, পানি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়ান। এভাবেই এটি একটি গণআন্দোলন হয়ে যায়।

শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও তরুণদের নেতৃত্ব নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইয়ুথ মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা আকরাম হোসেইন বলেন, পুলিশ কখনো আন্দোলন থামাতে চায়নি। তারা লাশ চেয়েছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় নানামুখী হেনস্তার বিষয়ে কার্টুনিস্ট ও ফ্যাক্ট চেকার রাফিদ আরিয়ান বলেন, আমি শেখ হাসিনার একটি কার্টুন এঁকে ফেসবুকে পোস্ট করায় আর নিজের বাড়িতে থাকতে পারিনি।

ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে সব তরুণই বলেন, তারা কেউ ছাত্র রাজনীতির বিপক্ষে না। তবে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও শিবিরের যে দীর্ঘদিনের দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, সেটি আর কেউ চান না।

সভায় এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘এই প্রজন্মের কাছে আমাদের অনেক আশা। তাদের দ্বারা যেকোনো কিছু সম্ভব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত