ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় সাড়াদেশ। তরুণী চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশের ডাক্তারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিবাদ তুঙ্গে উঠেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবার রাতের বেলায় কলকাতার রাজপথে নেমে এসেছিলেন হাজারও নারী। ‘রাত দখল করো’— কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার দিবাগত রাতে কলকাতার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন নারীরা।
তবে কলকাতাজুরে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদের মধ্যেই আরজি কর হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি মেয়েদের ‘রাত দখল কর’ কর্মসূচীতেও হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। খবর আনন্দবাজার।
বুধবার মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিক্ষোভের সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এছাড়া হাসপাতালের বাইরের চত্বরেও সে সময় ভাঙচুর চালায় তাঁরা।
হামলাকারীদের আক্রমণে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টার, এইচসিসিইউ (হাইব্রিড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট), সিসিইউ (ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট), ওষুধের স্টোররুম।
এমনকি হামলা চালানো হয় আরজি কর মেডিকেলের পুলিশ ফাঁড়িতে। ভাঙচুর চালানো হয় আন্দোলনকারীদের মঞ্চেও। হামলাকারীরা পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। এই হামলার ঘটনায় আহত হন বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী।
এ অবস্থায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের খুঁজে করার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীরা অবশ্য এই ঘটনায় তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে।
আনন্দবাজার বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই হামলাকারীদের পরিচয় জানা যায়নি। এমনকি এই হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, জানা যায়নি তাও।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, হামলার শুরুতে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ। দ্রুত পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ?
পরে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ কমিশনার। তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, ‘কলকাতা পুলিশের ডিসি (উত্তর) প্রতিবাদকারীদের রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছেন। এখানে যা হয়েছে তা ভুল প্রচারের জন্য হয়েছে। কলকাতা পুলিশ এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।’
