আরও ২ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ০৫:০৪ এএম

রাজধানীর শ্যামপুরে সহিংসতায় আহত ও মিরপুর পুলিশ লাইনসে অস্ত্রাগারে মিস ফায়ারে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত দুই পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ধানম-ি পপুলার হাসপাতালে কনস্টেবল খলিলুর রহমান (৫৩) ও বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে মারা যান এএসআই আল আমিন (৩১)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত আল আমিন লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুস্তা কাছাড়িপাড়া গ্রামের বক্কর আলীর ছেলে। তিনি দারুস সালাম থানায় কর্মরত ছিলেন। নিহত খলিলুর রহমান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার তালতলা গ্রামে মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি শ্যামপুর থানায় কর্মরত ছিলেন।

কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমান সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, গত ১২ আগস্ট বিকেলে মিরপুর পুলিশ লাইনসে জমাকৃত অস্ত্র আনতে যান দারুস সালাম থানার এএসআই আল আমিনসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা। সেখানে এএসআই ইয়াছিন আলী নামের একজন পুলিশ সদস্যের হাতে থাকা পিস্তল মিস ফায়ার হয়ে আল আমিনের পেটের বামপাশে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিটি পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওইদিন ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান সহকর্মীরা। সেখান থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে মারা যান তিনি।

অন্যদিকে, শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোরগুল হাসান সোহাগ সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট বিকেলে শ্যামপুর থানার ছাদে পুলিশ সদস্য খলিলুরকে মারধর করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর ছাদ থেকে ফেলে দেয়। আহত অবস্থায় তাকে ওইদিনই ধানম-ি পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে মারা যান তিনি।

এর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম বলেছিলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৪২ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন র‌্যাব সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া বহু আহত রয়েছেন। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালেই ৫০৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় গুরুতর আহত ২৭ জন পুলিশ সদস্য ভর্তি রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত