অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে মিরপুরের শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সোমবার বিভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনা পরিদর্শন কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ‘হোম অব ক্রিকেট’ শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসেছিলেন আসিফ মাহমুদ।
সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন কাগজে-কলমে এখনো বিসিবি সভাপতি। যদিও এই মুহূর্তে তার অবস্থান অজ্ঞাত, শোনা যাচ্ছে তার পদত্যাগের গুঞ্জনও। পাপন বিসিবিতে এলেই তাকে ঘিরে তৈরি হতো স্তাবকদের জটলা, বিসিবির কর্তাদের পাশাপাশি ক্যামেরায় মুখ দেখানোর উৎসাহী মানুষেরও অভাব হতো না। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পাপন নেই; তবে সেই অপসংস্কৃতি ঠিকই রয়ে গেছে। আসিফ মাহমুদের অপেক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে তৎপর হয়ে ওঠা কয়েকজন ‘বঞ্চিত’ সংগঠক অপেক্ষায় ছিলেন ফুলের তোড়া নিয়ে, তেমনি সুযোগ বুঝে ভোল পালটে ফেলা মুন্না মিরাজ, দেবব্রত পালের মতো অনেকেই ছিলেন তৎপর। বাদ যায়নি শিক্ষার্থীরাও, দাবিদাওয়া লেখা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তারাও। সব মিলিয়ে এক জগাখিচুড়ি অবস্থা, যেখানে গাড়ি থেকে নামতেই হিমশিম খেতে হয়েছে তরুণ এই উপদেষ্টাকে।
তামিম এই মুহূর্তে জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই। তার কোনো পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও চলমান নেই। গত কয়েক দিনে তাকে দেখা যায়নি বিসিবি কার্যালয়ে। উপদেষ্টা আসিফের বিসিবি কার্যালয় ও স্টেডিয়াম পরিদর্শনে তার আগমনের সময় ছিল দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টার ভেতর। তামিম চলে এসেছিলেন দুপুর ১২টা বাজার আগেই। আসিফ মাহমুদ বিসিবি কার্যালয়ে ঢুকে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর যখন মাঠ এবং অন্যান্য স্থাপনা পরিদর্শনে বের হলেন, তখন তার পাশেই ছায়াসঙ্গী হয়েছিলেন তামিম। আসিফকে নিয়ে তামিম গিয়েছেন প্রেসিডেন্টস বক্স, ড্রেসিংরুম, প্রেসবক্স, ইনডোর অনুশীলন কেন্দ্র, বিসিবির ক্রিকেট অ্যাকাডেমি এবং সংলগ্ন মাঠসহ বিভিন্ন স্থাপনায়। সঙ্গে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনও ছিলেন। পদাধিকার অনুযায়ী তারই মুখ্য ভূমিকায় থাকার কথা, কিন্তু তার ভূমিকাটা বরং ছিল দর্শকের। সঙ্গে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট, গ্রাউন্ডসসহ বিভিন্ন বিভাগের ব্যবস্থাপকরা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন অনেক রবাহুতরাও। তামিম কেন এসেছিলেন সেই ব্যাখ্যা দিতে পারলেন না প্রধান নির্বাহী, ‘এ বিষয়টা আমি আসলে অবগত না, কী ক্যাপাসিটিতে...উনি এসেছেন এবং উপদেষ্টা মহোদয় যেহেতু ছিলেন, ওনার সঙ্গে কথা হয়েছে, এর বাইরে কিছু না।’
প্রায় পুরোটা সময়ই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার পার্শ্বচর হয়ে থাকা তামিম অনেক রসিকতাও করেছেন, তাতে হাসির রব যেমন উঠেছে, তেমনি অনেকেই তাতে দেখছেন আশঙ্কার মেঘ। তামিমের অবসর নেওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধেই ফিরেছিলেন খেলায়। সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন শেখ হাসিনার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগও ছিল। হাসিনার সরকারকে উৎখাত করা ছাত্র-জনতার প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে আসা আসিফের সঙ্গে তামিমের এই ঘনিষ্ঠতা তাই অনেকেই দেখছেন বাঁকা চোখে।
বিসিবি কার্যালয়ে ও শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আসার কারণ হিসেবে আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর আমাদের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে স্থাপনা গুলো আছে, সবই একটু ঘুরে দেখছি। আজকে (সোমবার) বিকেএসপিতে যাওয়ার কথা ছিল, যেতে পারিনি। ক্রীড়া পরিদপ্তরসহ এখানে, বিসিবিতে আসা হয়েছে। অবকাঠামোগত যে অবস্থা আছে, সেটা দেখতে চেয়েছিলাম। দেখলাম ঘুরে ঘুরে সব জায়গা এবং নারী ক্রিকেট দলের সঙ্গে দেখা হলো। তারা সামনে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে এবং যে ব্যাপারগুলো এখানে উন্নয়নের প্রয়োজন আছে, সে ব্যাপারে নোট নিলাম, আশা করি সামনে আমরা এসব ঠিক করে দিতে পারব।’
অভূতপূর্ব একটি রাজনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রীড়া উপদেষ্টার চেয়ারে বসেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। সোমবার যাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, ছবি তুলেছেন তারা প্রায় সবাই বিগত ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গেও একইভাবে হেসে হেসে ছবি তুলেছেন গত কয়েক বছরে। তারা যাকে ঘিরে বসেছিলেন বিসিবির সভাকক্ষে, সেখানে কিছুদিন আগেও তারা গুণকীর্তন করতেন পাপনের। ক্রিকেটের স্থাপনা চেনার পাশাপাশি এই মানুষগুলোকে চেনাটাও জরুরি আসিফের, না হলে কী হতে পারে, সেই দৃষ্টান্ত তো তার চোখের সামনেই।
