জমি অধিগ্রহণ না করেই সেতু নির্মাণ!

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪, ০২:৩৬ এএম

রাজবাড়ীর পাংশায় জমি অধিগ্রহণ না করেই নির্মাণ করা হচ্ছে সেতুু। চার বছর আগে নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও ক্ষতিপূরণ পাননি ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না দিয়ে এক প্রকার জোর করে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। কাজে বাধা দিলে পুলিশি হয়রানির শিকার হন তারা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পাংশা হেডকোয়ার্টার থেকে মাগুরার লাঙ্গলবাধ জিসি সড়ক পর্যন্ত গড়াই নদীর ওপর ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেতু নির্মাণের কাজ পায় এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬৩ কোটি ৯১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। সেতুর কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ৩ জুন। কাজের সময়কাল ছিল ৩৬ মাস । এখন পর্যন্ত সেতুর ৭৪ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

সেতু ও সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করার জন্য মোট ৬ দশমিক ৩৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার ৩ দশমিক ৬৬৫ একর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ২ দশমিক ৫২ একর ও মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শূন্য দশমিক ১৮ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আকতার ম-ল নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমাদের তিন ভাইয়ের ৩৮ শতাংশ জমির ৩৭ শতাংশই এই ব্রিজ করার জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোনো নোটিস না দিয়েই আমাদের জমিতে সেতুর কাজ শুরু করা হয়। আমরা তাদের কাজে বাধা দিলে পুলিশ দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হয়। জোর করে কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়েই গাছপালা কেটে সেতুর কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। পরে তারা জমি অধিগ্রহণের জন্য তালিকা তৈরি করে। আমাদের ছিল ভিটা বাড়ি। তারা তালিকায় ধরেছে নাল জমি। আমি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে এ কথা বলেছি। এখন এখানে এক শতাংশ জমির দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু সরকারিভাবে আমাদের জন্য এক শতাংশ জমির মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৯ হাজার টাকা। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক তদন্ত করে সরকার যেন আমাদের ক্ষতিপূরণ দেয়।’

রঞ্জু আহম্মেদ নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘ব্রিজের সংযোগ সড়কের করার জন্য জমি অধিগ্রহণের জরিপ করা হয়েছে। এতে আমার জমিও গেছে। আমার বাড়িতে দুটি ঘর রয়েছে। এই দুটি ঘরই ভাঙা লাগবে। কিন্তু চার বছর ধরে এটি নিয়ে ঝুলে আছি। বছরখানেক আগে আমাদের চিঠি দিয়েছিল। আমরা একবার ডিসি অফিসে গিয়েছিলাম। কবে আমাদের জমির টাকা দেবে তা আমরা কেউ বলতে পারব না। আমরা এই টাকা পাব কি না এটাও এখন আমাদের কাছে অনিশ্চত।’

প্রকল্পের ব্যবস্থাপক বিজন কৃষ্ণ বাড়ই বলেন, ‘সাবেক রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম আমাদেরকে বলেছিলেন, দ্রুত ব্রিজের কাজ শুরু করতে। জমি অধিগ্রহণের কাজ যত দ্রুত করা যায়, তিনি সেই বিষয়টি দেখবেন। তারপর আমরা জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অনুরোধ করে সেতুর কাজ শুরু করি। জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’

রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণের জন্য টাকা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, সেটা বাতিল হয়েছে। আবার নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবাই ক্ষতিপূরণ পাবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

রাজবাড়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জ্যোতিশ^র পাল বলেন, ‘এলজিইডি থেকে পাঠানো একটি চিঠি আমি পেয়েছি। পূর্বের যে প্রাক্কলন ছিল, কোনো কারণে তা বাতিল হয়েছে। নতুন করে আবার একটি প্রাক্কলন পাঠাতে বলেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত