কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মোছনী গ্রামে রোহিঙ্গা শিবিরের ভেতরে একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই ভাইকে অপহরণ করে নিয়ে যায় রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা। পরে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয় বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। গত মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে স্থানীয় দুদু মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, অপহরণ ও এলাকাবাসীর ওপর গুলি ছোড়ার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে টেকনাফের হ্নীলার মোছনী নোয়াপাড়া ক্যাম্পের ভেতরে দুদু মিয়ার বাড়িতে ঢুকে ডাকাতরা দুদু মিয়াসহ বাড়ির নারীদের মারধর করে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট এবং তার দুই ছেলে মো. তারেক (২২) এবং মো. রাসেলকে (২০) অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাদের উদ্ধারে জনতা একত্র হলে রোহিঙ্গা শিবির থেকে ইটপাটকেল ও গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এ সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা পাল্টা কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ইটের আঘাতে মোছনী গ্রামের তিনজন আহত হয়।
এদিকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার মুক্তিপণ নিয়ে অপহৃত দুজনকে গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে ছেড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের পর তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে তাদের এনজিও পরিচালিত একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয় মেম্বার মোহাম্মদ আলী বলেন, কিছু সশস্ত্র দুর্বৃত্ত রোহিঙ্গা স্থানীয় দুজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে এবং শারীরিক নির্যাতন চালায়। স্থানীয় জনতা সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের আটকের দাবি ও এলাকায় নিরাপত্তার দাবি জানান।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আদনান চৌধুরী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
