মৃত ভেবে পড়ে ছিলেন রাস্তায়

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৫৬ এএম

গুলিবিদ্ধ আহত কিশোর স্বাধীন (১৮) বিছানায় কাতরাচ্ছেন, পাশে তার মা বিলাপ করছেন। অসহায় বাবা শত চেষ্টা করেও ছেলের চিকিৎসার টাকা সংগ্রহ করতে পারছেন না। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারা দেশের মতো গাজীপুরের শ্রীপুরেও ছাত্র-জনতা বিজয় মিছিল করে। সে মিছিল যখন গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা পল্লীবিদ্যুৎ মোড়ের কাছে আসে তখনই একটি গুলি গলার এক পাশ দিয়ে ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। সড়কে লুটিয়ে পড়েন কিশোর স্বাধীন।

মৃত ভেবে রাস্তার পাশে পড়ে থাকেন তিনি ঘণ্টাদুয়েক। তাজা রক্তে ভেসে যায় আশপাশ। এরই মধ্যে নড়াচড়া ও গোঙানির শব্দে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। এতক্ষণে ঘটনাস্থলে এসে গেছেন বাবা ও মা-সহ স্বজনরাও। কোথাও গাড়ি নেই, অটোরিকশায় তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত ৮টার দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দুদিন সেখানে থাকার পরও মেলেনি কাক্সিক্ষত চিকিৎসা। তাকে বাঁচাতে ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেও টাকার অভাবে মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। এখন তো যন্ত্রণায় কাটছে প্রতিটি মুহূর্ত।

স্বাধীনের বাবা আব্দুস সাত্তারের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চারখালৌজা গ্রামে। তিনি ভ্যানে করে শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর বাজারে সবজি বিক্রি করেন। মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া তারা। অসহায় পরিবার হওয়ায় বাবাকে ব্যবসায় সহায়তা করতেন স্বাধীন।

স্বাধীনের বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন, দুই মেয়ে ও এক ছেলে তার। অভাবের কারণে নিজ এলাকা ছেড়ে গাজীপুরে এসেছেন। অনেক কষ্ট করে সংসার চলত। আর ছেলে গুলি খাওয়ার পর থেকে তো অন্ধকারে পড়েছি। স্বাধীন স্থানীয় মেধাসিঁড়ি স্কুলে  দশম শ্রেণিতে পড়ার পর দারিদ্র্যের কারণে আর পড়তে পারেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত