বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকায় ১৩ শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসককে বিভিন্ন মেয়াদে কলেজ ও হল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল। তাদের মধ্যে আটজন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এ ছাড়া আরও ১৩ বহিরাগত চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ায় কলেজ অধ্যক্ষসহ নয় শিক্ষককে বদলির সুপারিশও করেছে একাডেমিক কাউন্সিল।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে গত বুধবার কলেজের নতুন ভবনের গ্যালারি-১-এ অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বলা হয়, অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার ব্যাপি, অপরাধের মাত্রা, তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জানা গেছে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী-ইন্টার্ন ও বহিরাগত চিকিৎসকরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং শিক্ষকরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সদস্য।
এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৬ জুলাই সলিমুল্লাহ মেডিকেলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। আহত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিল শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়।’ তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কলেজ কর্র্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। তবে শিক্ষকদের বদলির সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গুরুতর অপরাধ ৮ জনের : গুরু অপরাধ করেছেন এমন আটজনের বিরুদ্ধে ঘটনায় সর্বক্ষেত্রে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তাদের মধ্যে ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাকের আহমেদকে ক্যাম্পাস থেকে ১০ বছরের জন্য বহিষ্কার ও তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
মধ্যম অপরাধে ৮ জন : মধ্যম অপরাধে জড়িত শিক্ষার্থী প্রাপ্ত, আলিফ, নওশাদ ও আনিসকে হল ও ক্যাম্পাস থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। ইন্টার্নদের মধ্যে ডা. ফাহিম ও ডা. আজিজকে হল ও ইন্টার্নশিপ থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। বহিরাগতদের মধ্যে ডা. শাফিন ও ডা. নুরুজ্জামানকে তিন বছরের জন্য ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও মামলা করা হবে।
লঘু অপরাধে ৫ : এ পাঁচজন ঘটনায় শারীরিকভাবে অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পরোক্ষভাবে ভীতি প্রদর্শন ও গুজব রটানোয় তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী নওশীন ও ঋতিকাকে ছাত্রী-নিবাস ও ইন্টার্ন হল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে ও মুচলেকা দিতে হবে। বহিরাগত ডা. সাগরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও তার বিরুদ্ধে মামলা হবে।
উসকানিদাতা ৫ : পরোক্ষভাবে বহিরাগত উসকানিদাতাদের মধ্যে ডা. মজনু মিয়া, ডা. মাইদুল, ডা. রাতুল, ডা. আসাদুজ্জামান ও ডা. নবাব শেখকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
বদলির সুপারিশ ৯ শিক্ষককে : গত ১৬ জুলাই হামলার ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের মধ্যে ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুদীপ দাস গুপ্ত, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুস ছাত্তার সরকার, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুস ছাত্তার ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আমিরুজ্জামান সুমন এবং শান্তি সমাবেশে যোগ দেওয়ায় অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহাদাত হোসেন, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আকাইদুজ্জামান, সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সাহা, সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. অজয় কুমার সরকার ও সহকারী রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. প্রহল্লাদ পালকে বদলির জন্য সুপারিশপত্র পাঠানো হবে। এ ছাড়া ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. নাজমুন নাহার রোজীকে বদলির জন্য কর্র্তৃপক্ষ সুপারিশপত্র পাঠাবে।
