কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়ন পরিষদের বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টায় বাঁধ ভেঙে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ওই উপজেলার একতলা সমান পানি উঠে যায়। এতে আশ্রয় কেন্দ্রে খোঁজে ছোটাছুটি করছে মানুষ। সেই সঙ্গে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে গিয়ে ৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দেড়টার সময় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশরী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জমান। তিনি বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে ওই স্থানের নিচ দিয়ে পানি বের হচ্ছিল। স্থানীয় লোকজন বালুর বস্তা ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু রাত পৌনে ১২টার দিকে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।
পাউবো কর্মকর্তারা বলেছেন, গত দুই দিনে পানি বাড়ার হিসাব অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। গতকাল বিকেলে পানি বিপদসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। ১৯৯৭ সালে নদীটিতে বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল।
এ বিষয়ে বুড়বুড়িয়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়া বলেন, তার বাড়িঘর সব পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব বলতে গিয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় নদীর পানিতে হঠাৎ ঘূর্ণন শুরু হয়। তারপরই বাঁধ ভাঙতে শুরু করে। প্রথমে বাঁধটি ১০ ফুটের মতো ভাঙে। তারপর ভাঙতে ভাঙতে ২০০-২৫০ ফুট করে বড় আকারে ভেঙে যায়।
এ বিষয়ে বন্যা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়া নানুয়ার বাজার গ্রামের গৃহবধূ আইরিন আক্তার বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সপরিবার তাদের ঘর ছাড়তে হয়েছে। ১২ বছরের সংসারটা সাজানো–গোছানো ছিলো। পানি সব নিয়ে গেল।
সোমা রানি বলেন, কোলের বাচ্চাকে নিয়ে সারা রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। পানিতে তাদের বাড়িঘরও ডুবে গেছে। এখন কোথায় থাকবেন, সেই ভাবনাতেই দিশেহারা। এসব আশঙ্কার কথা জানাতে গিয়ে তার চোখও ভিজে ওঠে। একপর্যায়ে আঁচলে চোখ মুছেন তিনি।
জানা যায়, গোমতীর বাঁধের ভান্তি, কামারখাড়া ও বালিখাড়া অংশে পাঁচ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। শিশুদের মধ্যেও স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস নেই। তাদের চোখ–মুখেও আতঙ্কের ছাপ পড়েছে। বন্যায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খুব বেশি খাবারের জোগান নেই। দ্রুত শুকনো খাবার ও পানির প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বন্যা আক্রান্তরা।
ওই উপজেলার প্লাবিত গ্রামগুলো হলো বুড়বুড়িয়া, খাড়াতাইয়া, নানুয়ার বাজার, কিং বাজেহুরা, মিথিলাপুর, শিকারপুর, মহিষমারা, ইছাপুরা, পয়াত, গাজীপুর, কণ্ঠনগর, মাওরা, গোপীনাথপুর, জগৎপুর ও গোসাইপুর এলাকার ৪০ গ্রাম।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহিদা আক্তার বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।
