বগুড়ায় কালভার্টের মুখবন্ধ, পানিবন্দি ৯ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৫৫ পিএম

বগুড়ার শেরপুরে সরকারি জায়গা দখল করে কালভার্টের মুখবন্ধ করে দেওয়ায় পানিবন্দি হয়েছে পড়েছে ৯ গ্রামের মানুষ। সেইসঙ্গে অনাবাদীতে পরিণত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বিঘা জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়া গ্রামগুলো হলো- উপজেলার মির্জাপুর, রামচরণমুকুন্দ, দড়িমুকুন্দ, কানাইকান্দর, রাজবাড়ী, হাতিগাড়া, আড়ংশাইল, মদনপুর ও কৃষ্ণপুর। এসব গ্রামের মসজিদ, ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে, ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার মানুষদের। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, কৃষি কেন্দ্রসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও আশ্বাস ছাড়া সমাধান পায়নি ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন কাজেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। গত চার বছর ধরে ওই ৯ গ্রামের কৃষকরা কোনো চাষাবাদ করতে পারছেন না। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা পানির কারণে স্কুলে যেতে পারে না। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে কৃষি খাতে। সাড়ে ৩ হাজার জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। যে জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে আছে সেগুলোতে গড়ে ১৮ থেকে ২১ মণ বোরো ধান উৎপাদন হতো। ওই ধান বিক্রি করেই তারা সংসার চালাতেন।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৭-৮ বছর ধরে বৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতায় প্রতিবছর আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। গরু-ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি পশুপালন করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এছাড়াও আবদ্ধ পানিতে হাঁটাহাঁটি করার ফলে বিভিন্ন রকমের পানিবাহিত রোগ হচ্ছে।’

মদনপুর গ্রামের আশাদুল জানান, ৬০ বিঘা জমি চার বছর ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে। প্রতিবছর গড়ে তিনি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

তার গ্রামের শতাধিক কৃষকের একই অবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ঠিক না করা গেলে জমি থেকেও অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাবেন। এরই মধ্যে অনেকে আমার মতো আর্থিক কষ্টে ভুগতে শুরু করেছেন।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় আড়ংশাইল গ্রামে একটি পুকুর তৈরি ও দুটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কালভার্টের মুখ খুলে দিয়েছিলাম আবার বন্ধ করে দিয়েছে। তারা মুখ বন্ধ করায় এত মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষতি হয়েছে যা বলার মত নয়। তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন জিহাদী বলেন, কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমাদের উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার, মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং অন্য প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করেছেন। সরকারি প্রকল্প দিয়ে হলেও ৭ দিনের মধ্যে জলাবদ্ধ নিরসনে কাজ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত