কায়রোতে নিষ্ফলা বৈঠক

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৪, ১২:২৬ এএম

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে এবারও দেখা গেল না কোনো আশার আলো। গত রবিবার মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে প্রতিনিধিদের। হামাস বা ইসরায়েল কেউই মধ্যস্থতাকারীদের উত্থাপন করা সমঝোতার শর্তে একমত হতে পারেনি। গাজা যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সর্বশেষ উদ্যোগের সাফল্য নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছে তারা। মিসরের দুটি নিরাপত্তা সূত্র সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, মিসরের কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলোচনাকে গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন। বলেছেন, একটি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নযোগ্য চুক্তিতে উপনীত হতে সব পক্ষ আত্মিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারা আগামী দিনেও এগুলো নিয়ে কাজ করে যাবেন। এবার যারা আলোচনা করেছেন, তারা কায়রোতে থাকবেন বলেও জানান মার্কিন ওই কর্মকর্তা।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলার পর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলি সেনারা পাল্টা হামলা চালায়। শুরু হয় গাজা যুদ্ধ।

কানাডার হ্যালিফ্যাক্সে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেন, একটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তিতে উপনীত হতে ওয়াশিংটন এখনো ‘উদ্যমী’ হয়ে কায়রোতে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইসরায়েলের প্রতিনিধিরাও ওই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

মিসরের সূত্রগুলো বলেছে, মধ্যস্থতাকারীরা ফিলাডেলফি ও নেটজারিম করিডরে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থানের বেশ কয়েকটি বিকল্প তুলে ধরেন। তবে কোনো পক্ষই এতে একমত হয়নি।

হামাসের দাবি অনুসারে, বেশ কয়েকজন বন্দির মুক্তির ব্যাপারে ইসরায়েল আপত্তি জানিয়েছে। ইসরায়েল এমনও বলেছে, মুক্তি দেওয়া হলে তাদের গাজা ছাড়তে হবে।

হামাস বলেছে, ইসরায়েল এসব করিডর থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। হামাসের কর্মকর্তা ওসামা হামদান আল আকসা টিভিকে গতকাল বলেছেন, গত ২ জুলাই যেসব আলোচনায় তারা সম্মত হয়েছিলেন, তা থেকে সরে এসে নতুন কোনো আলোচনা হলে তারা রাজি হবেন না।

গত জুলাই মাসে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া আলোচনার প্রস্তাবে রাজি হয় হামাস।

তবে রবিবার হামাসের একটি প্রতিনিধিদল কায়রো ছেড়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইজ্জত আল রশিদ বলেছেন, হামাস বলেছে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের শর্তেই যেকোনো সমঝোতা হতে পারে।

এদিকে এই অবস্থার মধ্যে রবিবার ভোরে ইসরায়েলে শত শত রকেট ও ড্রোনযোগে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। অবশ্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, বড় ধরনের আক্রমণ রুখতে তারা প্রায় ১০০ জঙ্গি বিমান দিয়ে লেবাননে আঘাত হানে। পাল্টাপাল্টি হামলায় লেবাননে তিনজন ও ইসরায়েলে একজন নিহত হয়েছে। উভয় পক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা আর না বাড়ায় তারা সন্তুষ্ট। কিন্তু সামনে আরও আঘাত হানা হতে পারে বলে উভয় পক্ষই সতর্ক করেছে।

হিজবুল্লাহর নেতা সৈয়দ হাসান নাসরাল্লাহ বলেছেন, তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, তারা তাদের আক্রমণের ফলাফল যাচাই করে দেখবেন, যদি তা সন্তোষজনক না হয়, তাহলে আবারও হামলা চালানোর অধিকার তারা রাখেন।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ হিজবুল্লার সঙ্গে পুরো মাত্রার যুদ্ধ চায় না। কিন্তু দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ‘এটিই গল্পের শেষ নয়। আমাদের দেশকে রক্ষায় যেকোনো কিছু করার জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যে কেউ আমাদের ক্ষতি করবে, আমরাও তার ক্ষতি করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত