৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়ে আটকে গেছেন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং ব্যারি উইলমোর। গত জুনে তারা বোয়িংয়ের মহাকাশযান স্টারলাইনার মহাকাশযানে রওনা দেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে। এর ৮ দিন পরই তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। তবে স্টারলাইনারের প্রপালশন সিস্টেমে গোলযোগ ধরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের ফিরতি সফর স্থগিত করা হয়। চলতি সপ্তাহেই জানানো হয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফিরবেন তারা।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার প্রশাসক বিল নেলসন বলেছেন, নাসা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ক্রিউ ৯-তে (স্পেস এক্সের মহাকাশযান) চেপে বাচ (ব্যারি উইলমোর) এবং সুন্নি (সুনীতা উইলিয়ামস) ফিরবেন। আর ওই স্টারলাইনার (মহাকাশযানটি) কোনো সদস্য ছাড়াই ফিরে আসবে।
অর্থাৎ বোয়িংয়ের স্টারলাইনারে করে চেপে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গেলেও সুনীতাদের স্পেসএক্সের মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফিরতে হবে। যা বোয়িংয়ের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হতে চলেছে। গত কয়েক বছরে সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে মার্কিন সংস্থা বোয়িং। আর এবার প্রতিপক্ষ ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের মহাকাশযানে করে তাদের অভিযাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে।
বোয়িং এবং নাসার বিজ্ঞানীদের ধারণা, স্টারলাইনারের প্রপালশন সিস্টেমের যা হাল, তাতে পৃথিবীর দিকে নেমে আসার ক্ষমতা নেই। সেই পরিস্থিতিতে মাস্কের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মাসের শেষের দিকে উড়ে যাবে স্পেসএক্সের ক্রিউ-৯। তাতে চারজন যাওয়ার কথা থাকলেও দুজনকে নিয়ে রওনা দেবে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের চারপাশেই থাকবে। তারপর নির্দিষ্ট সূচি মেনে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। তাতে স্পেসএক্সের দুজন মহাকাশচারী থাকবেন। সঙ্গে থাকবেন সুনীতা এবং উইলমোরও।
আটদিনের জন্য যে মিশনে যান সুনীতারা, সেখানে আট মাস থাকতে হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে সুনীতাদের কি পর্যাপ্ত জোগান আছে? সেই প্রশ্নের জবাবে নাসা আশ্বস্ত করেছে যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পর্যাপ্ত জোগান আছে। আর দুই মহাকাশচারীও নির্দিষ্ট সময়ের থেকে অনেকদিন বেশি মহাকাশে কাটানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। আর তারা অনেক গবেষণাও চালাতে পারবেন।
