আদালত প্রাঙ্গণে ইনুকে ডিম-জুতা নিক্ষেপ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৪, ১০:৫২ পিএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার এসআই মো. সজিব মিয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিকেল ৪টা ৫০মিনিটে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ইনুকে সিএমএম কোর্টে নিয়ে আসে।

নিরাপত্তার প্রয়োজনে তাকে বহনকারী গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশের তিনটি প্রটেকশন গাড়ি ছিল। পরবর্তীতে বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে সিএমএম কোর্টের নিচে ইনুকে লক্ষ্য করে জুতা, ইটপাটকেল ও ডিম নিক্ষেপ করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। একাধিক ডিম ইনুর শরীরে পড়ে।

এ সময় আইনজীবীরা ইনুর গায়ের চামড়া, তুলে নেবো আমরা; ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি ইনুর ফাঁসি চাই বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। রিমান্ড মঞ্জুর শেষে নিচে নামার সময় দেখা যায়, তার সামনে পেছনে শতাধিক পুলিশ সদস্য প্রটোকল হিসেবে ছিল। ইনুর মাথায় ছিল হেলমেট। একইসঙ্গে যেসব পুলিশ সদস্য তাকে ধরে রেখেছিলেন তাদের মাথায়ও হেলমেট ছিল। আদালত ভবন থেকে নিচে নামার পর এক দৌড়ে ৫০ মিটারের মতো রাস্তা অতিক্রম করে তিনি হাজতখানায় প্রবেশ করেন। ইনুকে সিএমএম আদালতে আনার খবরে বিকেল ৪টা থেকে কোর্ট এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ সময় আইনজীবী ও সাংবাদিক ছাড়া বাকি সবাইকে আদালত এলাকা থেকে বের করে দেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া আগে থেকেই কোর্ট এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য।

গত ২৬ আগস্ট বিকেলে উত্তরার একটি বাসা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি টিম। জানা যায়, ভুক্তভোগী শাহজাহান আলী নিউমার্কেট থানার মিরপুর রোডের বলাকা সিনেমা হলের গলির মুখে পাপোশের দোকানে কাজ করতো। প্রতিদিনের মতো গত ১৬ জুলাই সকাল ৯টার দিকে দোকানে কাজ করার জন্য আসে। ওইদিন সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা একজন মামলার বাদীকে মোবাইল ফোন দিয়ে জানায় যে, শাহজাহান আলী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য শাহজাহানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি। এ অভিযোগে তার মা আয়শা বেগম বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত