দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মোহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। আইন সচিব ও নির্বাচন কমিশনকে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।
রুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২-এর ৯ ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির আগে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলে গণ্য হবে এবং ওই বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’ আইনের এ বিধান চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ আগস্ট ১০ আইনজীবীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ রিট আবেদনটি করেন। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন।
আবেদনের যুক্তিতে রিটকারীদের আইনজীবী আদালতে বলেন, আইনের ৯ধারার মাধ্যমে আগে নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে যা সংবিধানের ২৬, ২৭ এবং ৩১ অনুচ্ছেদসহ ক্ষমতার পৃথককরণ নীতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। এ ধরনের দায়মুক্তি সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক।
