গাজী টায়ার কারখানায় আগুন

তিন মাস আগে বিয়ে করা ফারজানা ধ্বংসস্তূপে খুঁজছেন স্বামীকে

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪, ০২:২৩ পিএম

মাত্র তিন মাস আগে ভালবেসে হযরত মিয়াকে বিয়ে করেছিলেন ফারজানা আক্তার। হাতের মেহেদীর রং এখনো শুকায়নি। স্বপ্ন ছিল দুজনে একসাথে কাটাবেন সারাজীবন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেই স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে গেল। গত রবিবার (২৫ আগস্ট) রাতে গাজী টায়ার কারখানায় গিয়েছিলেন হযরত মিয়া। কারখানার আগুন লাগা ভবনের ছয়তলায় আটকে পড়েন তিনি। এরপর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন হযরত মিয়া। কোনাপাড়া এলাকার লিটন মিয়া ছেলে হযরত মিয়া। তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

হযরতের বাবা লিটন মিয়া জানান, ‘হযরত গাজী টায়ার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। রবিবার ( ২৫ আগস্ট) রাতে গাজী টায়ারের লুটপাটের খবর পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে কারখানায় আসেন। রাত ১০ টার দিকে হযরত তার স্ত্রী ফারজানাকে কল দিয়ে জানান তিনি আগুন লাগা ভবনের আটকে আছেন। বিপদের মধ্যে পড়ছি তোমরা আমার জন্য দোয়া করিও।’

হযরতের মা রাশিদা বেগম বলেন, ‘আমার পোলাডারে (ছেলে) তোমরা ফিরাইয়া দাও। কেডায় কইবো এই কারখানার লুটপাটের কথা হুইনা দেখতে আইতে। হযরতের কিছু অইয়া গেলে আমাগো কি অইবো। আমার পোলাডায় আমাগো সংসার পুরা চালাইতো।’

হযরতের শাশুড়ি রাবেয়া বেগম বলেন, ‘অহন আমার মাইয়াডার (মেয়ের) কি অইবো। হযরতের কিছু অইয়া গেলে আমার মাইয়াডা বিধবা অইবো। আমার মাইয়া হযরতের লগে প্রেম করছিল। আমরা মাইনা নিয়া ওগো বিয়াও দিছিলাম। আমার মাইয়া ফারজানা স্বামীর লাইগা বারবার অজ্ঞান হইয়া যাইতাছে। তাই ওরে বাড়িতে রাইখা আইছি।’

অপরদিকে, গৃহবধূ নূপুর আক্তার। তিনিও অনেকদিন প্রেম করার পর এক বছর আগে যাত্রামুড়া এলাকার সুমন ইসলামকে বিয়ে করেন। সুমন ইসলাম অটোচালক ছিলেন। সুখেই চলছিল তাদের সংসার। কথায় আছে সুখ সবার কপালে সয় না। সেটিই যেন হলো নুপুর আক্তারের ক্ষেত্রে। গত রবিবার (২৫ আগস্ট) আগুন লাগারপর যাত্রামুড়া এলাকার একজন গাজী টায়ার থেকে লুটকৃত মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে নিয়ে আসে। এরপর থেকেই নিখোঁজ রয়েছে সুমন ইসলাম। রবিবার রাত ৯ টার দিকে সর্বশেষ ফোন করে জানিয়েছিল গাজী টায়ারের ছয়তলা ভবনে আগুন লেগেছে। তারা বের হতে পারছে না।

নুপুর আক্তার বলেন, ‘আমার শশুর বাড়ি গাইবান্ধা হলেও যাত্রামুড়া এলাকায় আমরা ভাড়া থাকতাম। আমার স্বামীরে কারা যেন নিয়ে আসছে মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এইখানে আমি ও আমার স্বামী থাকতাম। পরিবারের অন্য সদস্যরা গ্রামে থাকে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত