বন্যায় ত্রিপুরায় নিহত বেড়ে ৩১, বাস্তুচ্যুত ৭২ হাজারের বেশি 

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৫৫ পিএম

ভয়াবহ বন্যায় ত্রিপুরায় মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু ও ৭২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে রাজ্য সরকার জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রের সহায়তা চেয়েছে। এছাড়া, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য একটি উন্নত আন্তঃমন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় দল (আইএমসিটি) মোতায়েনের অনুরোধ করেছে রাজ্য সরকার। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আসাম ট্রিবিউন।

ত্রিপুরার রাজস্ব বিভাগের সচিব ব্রিজেশ পান্ডে জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিসি জোশীর নেতৃত্বে আইএমসিটি আজ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই দলে কৃষি, ব্যয়, জলসম্পদ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তিনি বলেন, ‘আইএমসিটি ত্রিপুরার বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়ন করবে।’

এদিকে, ২৪ অগাস্টের পর থেকে বৃষ্টিপাত কমলেও সোনামুড়ায় গোমতী নদীর জলস্তর বিপৎসীমার উপরে রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে ৪৯২টি ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে, যেখানে রাজ্যজুড়ে ৭২ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় নিয়েছে।

জেলা প্রশাসন খাদ্য, পানীয় জল এবং চিকিৎসা সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ পরিষেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া অমরপুর ও কারবুক মহকুমায় প্রায় ৩০০ জনকে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে মুখ্যসচিব, পুলিশ মহাপরিচালক, পিসিসিএফ এবং বিভিন্ন বিভাগের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ত্রাণ শিবিরগুলিতে নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. সাহা স্বাস্থ্য বিভাগকে ব্লিচিং পাউডার এবং হ্যালোজেন ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন, প্রয়োজনে প্রতিবেশী রাজ্য থেকে সংগ্রহ করতে বলেন।

বন্যায় রোগ প্রতিরোধ মোকাবিলায় চিকিৎসকরা ত্রাণ শিবিরগুলোতে ৩৫ হাজার ৯৯৩ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এছাড়া, রাজ্য সরকারের ত্রাণ পুনর্বাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ আটটি জেলায় ৬৯ কোটি টাকা এবং কৃষি ও বিদ্যুৎ বিভাগকে ৫ কোটি টাকা করে মোট ৭৯ কোটি টাকা সহায়তা বরাদ্দ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত