অবিরাম বৃষ্টি ও ভারতীয় ঢলের পানিতে স্মরণকালের বন্যায় প্লাবিত হয়েছে কুমিল্লার ১৪টি উপজেলা। সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে ৬৩ হাজার ৭৯৪ হেক্টর জমির ফসল। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৪৮ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আইয়ুব মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
আইয়ুব মাহমুদ বলেন, ‘বৃষ্টির পানি ও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির এটি প্রাথমিক তালিকা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরবর্তীতে জানানো হবে। বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি এবং কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করা হবে।’
জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলা জুড়ে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। চলমান বন্যায় ৬৩ হাজার ৭৯৪ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ফসলের মধ্যে রোপা আমন বীজতলা ৪ হাজার ৫১৫ হেক্টর ও ধান ২৩ হাজার ৩০৯ হেক্টর, খরিপ-২ শাকসবজি ২ হাজার ১৯ হেক্টর, রোপা আউশ ৩৩ হাজার ৫৮০ হেক্টর, বোনা আমন ৩৩৫ হেক্টর এবং ২১৬ হেক্টর আখ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর মধ্যে ২০ হাজার ৬৪১ হেক্টর রোপা আমন, ১ হাজার ৬১৫ হেক্টর খরিপ শাকসবজি, ২০ হাজার হেক্টর রোপা আউশ এবং ১১ হেক্টর আখ ফসলের জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
বন্যার পানিতে তলিয়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০৪ হেক্টর খরিপ শাকসবজি, ১৩ হাজার ৪৩২ হেক্টর রোপা আউশ এবং ২০৫ হেক্টর আখ ফসলের জমি।
এসব ফসলের মধ্যে ২২৩ কোটি ৪১ লাখ টাকার রোপা আমন বীজতলা, ২৬৯ কোটি ৯৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকার রোপা আমন, ৪৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার খরিপ শাকসবজি, ২৯৭ কোটি ৮৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার রোপা আউশ এবং ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার আখ ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে বন্যাদুর্গতদের কষ্ট লাঘব করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) । বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুবিধার্থে হাতে নেওয়া হয়েছে আমন ও রবি মৌসুমে সহায়তা কর্মসূচি। বন্যা পরবর্তীতে আমন মৌসুমে ১১৬ একর জমির জন্য বিনার বিভিন্ন জাতের ৪৪০০ কেজি বীজের চারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রে ও জমিতে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়া ৩০০০ কেজি বীজ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে, যা দিয়ে ২৫০ একর জমি প্রস্তুত করা যাবে।
রবি মৌসুমে বিনা সরিষা-৯ পাঁচটন ও বিনাসরিষা-১১এর ৭০টন বীজ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। যা ৩৫ হাজার একর জমিতে বপন করা যাবে। এছাড়া ২০০ একর জমির জন্য মাষকলাইয়ের জাত বিনা মাষ-২ তিনটন, ২০০ একর জমির জন্য বিনা খেসারী-১ তিনটন, ৯ হাজার একর জমির জন্য বিনাতিল-২২০ টন, ২৩৮ একর জমির জন্য বিনা চিনাবাদাম-৪,৬,৮ দশটন, ১৩ হাজার ৩৩৩ একর জমির জন্য বিনাধান-২৫ এর বীজ সহায়তা হিসেবে প্রদানের পরিকলপনা করা হয়েছে। এছাড়া দুই হাজার বিঘা জমিতে ২০০০টি প্রদর্শনীর জন্য সার ও বীজ প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) কুমিল্লা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অফিস প্রধান ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান এসব তথ্য জানান।
পুনর্বাসিত হচ্ছেন শেখ হাসিনা সরকার ঘনিষ্ট অনেকে
হৃদরোগ নাকি গুলি? কিভাবে মৃত্যু হল আ.লীগ নেতা পান্নার?
বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধার অভিযান সম্ভব নয়
ফেনীতে বন্যায় ক্ষতি ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা
আমরা কোটা আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম: আনিসুল হক
মধ্যরাতে সোহেল তাজকে ফলো করছিল কে?