বিএনপির দখলে খেয়াঘাট ইজারাদারের হা-হুতাশ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৪, ১২:৪৩ এএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইজারাদারের বগা-চরগরবদির খেয়াঘাট দখলে নিয়ে জোর করে টাকা তুলছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতা সাইফুল গাজী, সরোয়ার মৃধা ও লোকমান মৃধার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা দখলবাজির এমন কাজ করছেন। তাদের এমন কর্মকান্ডে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিএনপির অন্য নেতাকর্মীরা।

ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক কামরুজ্জামান হাওলাদার ৩০ লাখ ১৪ হাজার টাকায় খেয়াঘাটের ইজারা নেন। সরকারি বিধি মেনে ঘাটের কার্যক্রম চলছিল।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। এ সুযোগে মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল গাজী, ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি সরোয়ার মৃধা ও ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান মৃধার নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমন্বিত একটি গ্রুপ ঘাটের সব ব্যবসা তাদের দখলে নেয়।

গত ১৭ আগস্ট খেয়াঘাট ও এর সংলগ্ন দোকান, রেস্তোরাঁ থেকে টাকা তুলতে শুরু করে সাইফুল গাজী, সরোয়ার মৃধা ও লোকমান মৃধার কাছের লোক নাসির হাওলাদার ও রুহুল মৃধা। ঘাটের দায়িত্বে থাকা ইজারাদার কামরুজ্জামানের লোকদের মারধর করে চক্রটি তাদের ঘাট থেকে বের করে দিয়ে নিয়মিত টোল আদায় করছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বগা-চরগরবদি ঘাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খেয়াঘাটে কয়েকজন ব্যক্তি যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তুলছেন। স্থানীয়রা জানান, তারা সাইফুল গাজী ও সরোয়ার মৃধার লোক। দিনপ্রতি ৫০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন তারা।

ঘাটের দোকানিরা জানান, প্রতিদিন ঘাট ও আশপাশের দোকানপাট থেকে কয়েক হাজার টাকা তোলা হয়। টাকা তোলার দায়িত্বে রয়েছেন ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী নাসির, রুহুলসহ কয়েকজন যুবক।

বগা-চরগরবদি খেয়াঘাটের ইজারাদার কামরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ‘বিএনপি নেতা সাইফুল গাজী, সরোয়ার মৃধা, লোকমান মৃধা ও তাদের লোকজন ঘাট দখল করে নিয়েছে। খেয়াঘাটের ইজারা পেতে ৩০-৩৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছিল। অথচ তারা বিনিয়োগ ছাড়াই ঘাট দখলে নিয়ে তাদের লোকজন দিয়ে টাকা তুলছেন। এ ব্যাপারে ঘটনার দিনই দুমকি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ঘাট দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা সাইফুল গাজী বলেন, ‘স্থানীয় কিছু যুবক ঘাটে এসে ইজারাদারদের বিরক্ত করছিল। ব্যাপারটি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে বসেছিলাম। সরকারি ইজারা যেন নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের দেখে রাখতে বলেছেন ইউএনও। খেয়াঘাট থেকে টাকা তুলে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নোংসু সরকার বলেন, ‘দলের নাম ভাঙিয়ে অন্যায় কাজ করা যাবে না। যারা এ কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মাহমুদ বলেন, ‘সরকার পতনের কয়েক দিন পর খেয়াঘাট দখলের অভিযোগ নিয়ে ইজারাদারের পক্ষের লোকজন আমার কাছে এসেছিলেন। এ ব্যাপারে আমি তাদের পুলিশ এবং জেলা পরিষদের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত