অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আশরাফুল হক আসিফের বাবা আবু তালেব ছিলেন পেশাদার ফুটবলার ও সাংবাদিক। তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই ছেলেকে ফুটবলার বানানোর স্বপ্ন ছিল তার। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ছোট ছেলে আশরাফুল হক আসিফ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের অধিনায়ক। আর বড় ছেলে আরিফুল হক ময়মনসিংহ জেলা লিগের নিয়মিত ফুটবলার। কিন্তু আফিসের আফসোস, তাদের বাবা সেটি দেখে যেতে পারেননি। আসিফ যখন অনেক ছোট, তখনই মারা যান আবু তালেব। এরপর মা আর বড় ভাইয়ের চেষ্টায় এখন আসিফ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড়ও। গতকাল শুক্রবার ঈশ^রগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া সংবর্ধনা নেওয়ার সময় বারবার বলছিলেন বাবা, মা ও বড় ভাইয়ের কথা; বিশেষ করে বাবা আবু তালেব কথা।
আসিফের নেতৃত্বে স্বাগতিক নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের যুবারা। এতে সারা দেশের মতো বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছে ঈশ^রগঞ্জ উপজেলাবাসী। সবাই মুখিয়ে ছিলেন ঘরের ছেলে কবে ঘরে ফিরে আসবে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছে অনূর্ধ্ব-২০ দল। দেশে ফেরার পরপরই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কার্যালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে গতকাল শুক্রবার ভোরে নিজ উপজেলা ঈশ্বরগঞ্জে আসেন আসিফ। বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এ সময় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাফজয়ী দলের কাণ্ডারি আশরাফুল হক আসিফ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আসিফ বলেন, ‘আজ বাবা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন। আমি ছোট থাকতেই আমার বাবা মারা যান। মা ও ভাই কষ্ট করে আমাকে বড় করেছেন। দেশের হয়ে ট্রফি জিততে পেরে খুবই আনন্দিত। দেশের ফুটবলের ক্যাপ্টেন হয়ে ট্রফি জিততে পেরে আমি খুব গর্বিত। আমাদের এই জয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সব শহীদ ও বন্যার্তদের প্রতি উৎসর্গ করেছি।’
আসিফের মা মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আসিফের মা হিসেবে আমি অনেক গর্বিত। সে ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি খুব মনোযোগী ছিল। আমিও তাকে বাধা না দিয়ে উৎসাহিত করেছি। আজ আসিফের বাবার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আজ আমি সুখী।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমিনা সাত্তার বলেন, ‘আজ আমরা আসিফকে সংবর্ধনা জানিয়েছি। আসিফ ঈশ্বরগঞ্জের গর্ব। তিনি দেশকে এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাকে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করিয়েছেন।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ শাহ্ নূরুল কবির শাহিন, ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আসিফের শুভাকাক্সক্ষী-স্বজন, বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।
