নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এ ঘটনায় রাজপথে আন্দোলন করছেন হাজার হাজার মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার পশ্চিমবঙ্গে মহামিছিল কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সেখানে অংশ নেন ছাত্র-শিক্ষক-জনতাসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।
‘আমরা তিলোত্তমা’ শিরোনামে এ মহামিছিলের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে মহামিছিলে যোগ দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। প্রতিবাদ মিছিলে সরগরম হয়ে ওঠে কলেজ স্ট্রিট, রবীন্দ্র সদন, নন্দন, গোলপার্ক, কলেজ স্কয়ার, বেহালা, গড়িয়াহাট, ধর্মতলা থেকে পুরো রাজ্যে। সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে কলকাতার নাগরিক সমাজ। কলেজ স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিংয়ে শেষ হয় তাদের মিছিলটি। গোলপার্ক থেকে কালো পোশাকে মৌন মিছিল করেন রামকৃষ্ণ মিশনের সদস্যরা। দ্বিতীয় বৃহত্তর প্রতিবাদ মিছিলটির আয়োজন করে রামকৃষ্ণ মিশন। মিশনের প্রাক্তনী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কালো পোশাকে মৌন মিছিলে হাঁটেন। মিছিল শুরু হয় দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক থেকে, শেষ হয় নন্দন চত্বরে। বাদ যাননি বিনোদন জগতের তারকারা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন অপর্ণা সেন, স্বস্তিকা মুখার্জি, অপরাজিতা আঢ্য, সোহিনী সরকার, দেবলীনা দত্ত, সৃজিত মুখার্জিসহ অনেকেই।
এদিকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার লালবাজার অভিযান কর্মসূচি পালন করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আরজি কর-কাণ্ডের বিচারের পাশাপাশি কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবি তাদের। পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডাক্তার ফ্রন্টের সদস্যরা জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। দুপুরে কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিল নিয়ে লালবাজারের কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তরের দিকে এগোতে থাকে আন্দোলনকারীরা। তবে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকে দেয় পুলিশ। মিছিল আটকে দিলেও, জুনিয়র চিকিৎসকদের ২০ জনের প্রতিনিধিদলকে পুলিশের সদর দপ্তরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা। এদিকে আগামী বুধবার রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মোমবাতি জ¦ালিয়ে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
