বন্ধ করে দেওয়া ২৬টি রাষ্ট্রীয় পাটকল চালুসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কুদরত-ই-খুদা বলেন, ২০২০ সালের ২ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিনে খুলনার নয়টিসহ সারা দেশের ২৬টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেন। ফলে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যান। এর মধ্যে খুলনায় বেকার হন ২৬ হাজার শ্রমিক। এ ছাড়া জীবন-জীবিকার চরম সংকটে পড়েন কয়েক লাখ মানুষ। ওই সময় রাজনৈতিক কারণে ও প্রশাসনিক দমনপীড়নের ভয়ে শ্রমিকদের পক্ষে কোনো আন্দোলন সংগঠিত করা সম্ভব ছিল না। তবে রাষ্ট্রীয় পাটকল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু এবং পাটকল লোকসানের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে বিজেএমসির দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিতে খুলনার সচেতন নাগরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ সারা দেশের বিভিন্ন মিলের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ‘পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ’ গঠন করা হয়। কিন্তু বিগত সরকার নাগরিক পরিষদের দাবিকে অগ্রাহ্য করে তাদের ওপর জেল-জুলুম, দমনপীড়ন চালিয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে এ পর্যন্ত অধিকাংশ শ্রমিক তাদের বকেয়া বেতনসহ ন্যায্য পাওনা বুঝে পেয়েছে। কিন্তু পাঁচটি জুটমিলের (খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, জাতীয় জুটমিল, কেএফডি ও আর আর জুটমিল) শ্রমিকরা এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পায়নি। বর্তমানে এ সব শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত সময়ের মধ্যে উল্লিখিত পাঁচটি পাটকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাসহ মাথাভারী প্রশাসন ও বিজেএমসির সংস্কার, তৎকালীন মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার, ইতিমধ্যে যে সব রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল লিজ দেওয়া হয়েছে সেগুলো বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি, ২০১০ সালের ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট কার্যকর, কাঁচাপাট সরাসরি রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা, ব্যক্তিমালিকানাধীন পাটকল শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণ, শিশুশ্রমিক নিয়োগ বন্ধ, দৈনিক ন্যূনতম মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ এবং আন্দোলন চলাকালে শ্রমিক ও নাগরিক নেতাদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব এস এ রশীদ, জনার্দন দত্ত নান্টু, মুনীর চৌধুরী সোহেল, মো. মোজাম্মেল হক খান, নারীনেত্রী সুতপা বেদজ্ঞ, সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল প্রমুখ।
