এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জামালপুর শহরের ইদিলপুর মৌজার ডাকপাড়া এলাকায় জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে জামালপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্তের নাম মিজানুর রহমান। তিনি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের গুজামানিকা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি অ্যাডিশনাল ডিআইজি হিসেবে রংপুর রেঞ্জের দায়িত্ব পালন করছেন।
জামালপুর শহরের ফুলবাড়িয়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মৃত এসএম তৈয়বুর রহমানের স্ত্রী খুশিদা রহমান ও তার ছেলে এসএম মোরশেদ আলম সংবাদ সম্মেলনে এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খুশিদা রহমান বলেন, ‘আমার স্বামী তৈয়বুর রহমান ও তার ছোট ভাই আব্দুল জব্বার ডাকপাড়া এলাকায় ১৬৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে রাস্তা ও গ্যাসের লাইনের জন্য সরকারিভাবে ৬১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ^শুর আবদুল জব্বার একক স্বাক্ষরে সেই অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন করেন। সেই হিসাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্বশুরের ২৩ শতাংশ জমি অবশিষ্ট থাকে। আব্দুল জব্বার মারা যাওয়ার পর ওই ২৩ শতাংশ জমি তার মেয়ে মিজানুর রহমানের স্ত্রী নাসরিন দেবা সুমি ও তার পরিবারের সদস্যসহ, জব্বারের ভাই, ভাতিজা ও বোনরা ওয়ারিশ হন। কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী ২০১৬ সালে স্বামীর দাপটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তাদের জমিসহ আমাদের ৮৪ শতাংশ জমি ও দোকানপাট জোরপূর্বক দখল করেন।
খুশিদা রহমানের ছেলে মোরশেদ আলম বলেন, ‘মিজানুর রহমান পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় তার নির্দেশে পুলিশের সহযোগিতায় জমি দখল করে। প্রতিবাদ করলে আমাদের থানায় নিয়ে মামলার হুমকি, অপদস্থ ও গালিগালাজ করে। সেই সময়ের আওয়ামী লীগ নেতারাও ভয়ভীতি দেখান। এখন আমাদের জমি ফেরত চাই।’
এ প্রসঙ্গে অ্যাডিশনাল ডিআইজি মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটা আমার শ্বশুরের পৈতিৃক সম্পত্তি। তারা যে অভিযোগ করেছে সেটা অবান্তর। আপনারা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখতে পারেন।’ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন, ‘আমার সময়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
