বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রীষ্মের রেকর্ড গড়েছে ২০২৪ সাল। গতকাল শুক্রবার কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস এ তথ্য জানায়। বিশ্ব জুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সংস্থাটি। প্রকাশিত মাসিক বুলেটিনে সংস্থাটি জানায়, বিশ্বের উষ্ণতম উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এতে বৈশ্বিক উষ্ণতা তীব্রতর হচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইউরোপে ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গড় তাপমাত্রার তুলনায় ২০২২ সাল থেকে তা বাড়তে থাকে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের সহকারী ব্যবস্থাপক সামান্থা বার্গেস জানান, ২০২৪ সালের জুন ও আগস্ট পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রীষ্মের রেকর্ড করেছে। ১৮৫০ সালের প্রাক-শিল্প যুগের পর থেকে সবচেয়ে বেশি উষ্ণ ঋতু ছিল এটি। বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে জরুরিভাবে যৌথভাবে পদক্ষেপ না নিলে চরম আবহাওয়া আরও তীব্র হতেই থাকবে বলে জানান তিনি।
২০১৫ সালের পর থেকে চলতি বছর যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে শীতল গ্রীষ্ম পার হয়েছে। তারপরও সেটি ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে গড় উষ্ণতাকে ছাড়িয়ে গেছে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইউরোপের গড় তাপমাত্রা আগের তুলনায় ১.৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম দেখা যায় অস্ট্রিয়াতে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো থেকে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনকে দায়ী করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর কারণে খরা ও হঠাৎ বন্যাসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সুদানে গত মাসে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট হঠাৎ বন্যা ও কলেরায় ৩ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভয়ংকর খরার মুখোমুখি হয়েছে ইতালির সিসিলি এবং সার্ডিনিয়া দ্বীপপুঞ্জ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ বিজ্ঞানীদের।
