১২৪ আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি চট্টগ্রামে

  • উদ্ধার হয়নি থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া ৪৬৫ অস্ত্র
  • তিনদিনে ১ অস্ত্র ও ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার
  • লুটের অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারই প্রধান লক্ষ্য যৌথবাহিনীর
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:২৫ পিএম

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে গত বুধবার থেকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর অভিযান। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে শেষ হয় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেয়ার সময়সীমা। এর মধ্যে বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা অস্ত্র যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বৈধ অস্ত্রও। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) হিসেব অনুযায়ী, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নগরের ৮টি থানা ও ৮ ফাঁড়িতে হামলা, লুটপাট অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বিভিন্ন ধরণের ৫০০ আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২ হাজার গোলাবারুদ লুট হয়। যার মধ্যে অত্যাধুনিক নাইন এমএম তারাশ এবং সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরোর পিস্তলও রয়েছে।

যৌথবাহিনীর অভিযান শুরুর ২২ দিন আগে গত ১৩ আগস্ট পর্যন্ত থানা থেকে লুট করা অস্ত্রের মধ্যে ৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৭৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হন র‌্যাব সদস্যরা। আর অভিযান শুরুর দিন গত বুধবার নগরীতে অভিযান চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং কিছু গোলাবারুদ উদ্ধার করা গেছে বলে সিএমপির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদকালে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত লাইসেন্স পাওয়া সবধরণের অস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল গত ৩ সেপ্টেম্বর। এই সময়সীমার মধ্যে নগর এবং জেলার মোট ৩২টি থানায় লাইসেন্সকৃত ৮৪১টি বৈধ অস্ত্রের মধ্যে ৭১৭টি অস্ত্র জমা পড়ে বলে জেলা প্রশাসনের আগ্নেয়াস্ত্র শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, নগর ও জেলায় লাইসেন্স ছিল এমন ১২৪টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। অন্যদিকে নগরের ৮ থানা ও ৮ ফাঁড়ি থেকে লুট করা ৪৬৫টি (উদ্ধার ৩৫টি অস্ত্র বাদে) এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না পড়া ১২৪টিসহ মোট ৬২৪টি অস্ত্র ও ১২ হাজারের বেশি গোলাবারুদ মাঠে রয়ে গেছে। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে কয়টি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা গেছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আবদুল মান্নান মিয়া।  

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত সুপার (মিডিয়া) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন গতকাল শুক্রবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে জানান, যৌথবাহিনীর অভিযান শুরুর পর লোহাগাড়া থানা এলাকা থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৈধ অস্ত্র জমা না দেওয়ার তালিকার শীর্ষে আছে লোহাগাড়া ও বাঁশখালী থানা। এই দুটি থানায় ২৪টি অস্ত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়েনি বলেও জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সিএমপির শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক চক্রের গডফাদারদের ধরাই যৌথবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। চট্টগ্রামের অভিযানে মূলত থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া চিহ্নিত অপরাধী ও ছাত্র—জনতার হত্যাকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি পুলিশ: নগরে আক্রান্ত থানাগুলো সচল হলেও পুলিশ এখনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। সিএমপির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি টহল ডিউটি ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত টহল গাড়ি, অস্ত্র ও  গোলাবারুদ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম সহসা শুরু করা যাচ্ছে না। বর্তমানে কেবল দাপ্তরিক কাজ অব্যাহত রেখে জিডি ও মামলা নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

নগর পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৮টি থানা ও ৮টি ফাঁড়ি আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জনরোষের শিকার হয়। এসব থানা থেকে লুট করা হয় পুলিশের ৫০০ আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২ হাজার  গোলাবারুদ। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রর মধ্যে রয়েছে রাইফেল, এসএমজি, টি—৫৪ মডেলের পিস্তল, এসএমটি, শটগান, গ্যাসগান, টিয়ার গ্যাস লঞ্চার ও সিগনাল পিস্তল।  গোলাবারুদের মধ্যে আছে বিভিন্ন গুলি, টিয়ার গ্যাস শেল, টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড, সাউন্ড  গ্রেনেড, কালার  স্মোক  গ্রেনেড, মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড, ফ্ল্যাশ ব্যাংক গ্রেনেড ও হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস  স্প্রে (ক্যানিস্টার)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত