শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে দগ্ধ ১২ জন, আশঙ্কাজনক ৮

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:১২ এএম

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় এসএন করপোরেশন নামের ইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধদের মধ্যে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আটজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বাকি চারজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন জাহাঙ্গীর (৪৮), আহমাদুল্লাহ (৩৮), কাসেম (৩৯), সাগর (২০), আলামিন (২৩), কারিমুল (২১), হাবিব (৩৬), বরকত (২৩), আনোয়ার (৫০), রফিকুল (৩০), রফিক (৩০) ও সাইফুল (৩০)।

স্থানীয়রা জানায়, এসএন করপোরেশনে একটি পুরাতন জাহাজ কাটার কাজ চলছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ জাহাজটি থেকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এ সময় ইয়ার্ডের অন্য শ্রমিকদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষ দগ্ধদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠায়।

কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মামুন বলেন, তেঁতুলতলা এলাকার সাগর উপকূলে এসএন করপোরেশন নামের শিপইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর তাতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আমাদের দুটি ইউনিটের তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘সীতাকুন্ডে শিপইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ১২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মধ্যে অন্তত আটজনের শরীর ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সীতাকু-ে দুর্ঘটনায় দগ্ধ ১২ জনের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বাকি চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে তারা হলেন বরকত উল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, আল আমিন, জাহাঙ্গীর, হাবীব, কাসেম, খাইরুল ইসলাম ও আহমেদ উল্লাহ। তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীরের ৭০ শতাংশ, আহমেদ উল্লাহর ৯০ শতাংশ, আল আমিনের ৮০ শতাংশ এবং বরকত উল্লাহর শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে।’

এসএন করপোরেশনের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) ওমর ফারুক বলেন, ‘একটি জাহাজ কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। আজ (গতকাল) জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ একটি পাম্পের বিস্ফোরণ ঘটলে ১২ জন শ্রমিক আহত হন। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মেনেই জাহাজ কাটার কাজ করি। কিন্তু এ ঘটনা সম্পূর্ণ অনাকাক্সিক্ষত। আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

এদিকে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম রফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তবে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ।

শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও কেএম রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সীতাকুন্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোলায়মান ও কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ মামুন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের মধ্যে যেন কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত