পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বড় বিক্ষোভ করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। গতকাল রবিবার ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে এ সমাবেশের আয়োজন করে পিটিআই। এর আগে কয়েক মাস ধরে পিটিআই রাজধানীতে জনসভার অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি ইসলামাবাদে সভা-সমাবেশ ও মিছিল বন্ধ করতে দেশটির সিনেটে নতুন এক বিলও উপস্থাপন করেছিল ক্ষমতাসীনরা। এর মধ্যেও পিটিআইয়ের এ সমাবেশবিরোধী দলটির নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইমরানের ‘অবিলম্বে কারামুক্তির’ দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন দলটির কয়েক লাখ সমর্থক। ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর এটিই ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় সমাবেশ। এ সময় পিটিআই নেতা হাম্মাদ আজহার বলেন, দেশে আইনের শাসন ও সংবিধানের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য পিটিআই নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জড়ো হয়েছেন। কোনো বাধা তাদের দমাতে পারবে না। এ সময় ইমরান খানের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রত্যয় জানান পিটিআইয়ের এ নেতা।
তবে সমাবেশের শেষের দিকে পুলিশের সঙ্গে পিটিআইয়ের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাবেশ শেষ করতে পিটিআইকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল স্থানীয়
কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু দলটি সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাবেশ শেষ করেনি। পরে পুলিশ তাদের সমাবেশস্থল থেকে সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন পিটিআই কর্মীরা। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ছুড়তে বাধ্য হয় পুলিশ। এদিকে সমাবেশে পুলিশের হামলাকে ‘বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন হাম্মাদ আজহার। শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণকারীদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় সরকারের আসল চরিত্র প্রকাশ পেল বলে মন্তব্য এই পিটিআই নেতার।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কারাগারে থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আইনিভাবে মোকাবিলা করছেন তিনি। দুর্নীতিসহ ইমরানের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় শতাধিক মামলা হয়েছে। কিছু মামলায় ইমরান খানের দণ্ড স্থগিত হলেও, এখনই তার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
