মাস কয়েক আগেও বাংলাদেশ দল নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল সামান্যই। পারফরম্যান্স গিয়ে ঠেকেছিল তলানিতে। শক্তিধর দলগুলো তাই নাজমুল হোসেন শান্তদের হালকাভাবে নিচ্ছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট দলও পরিসংখ্যান দেখে সেটাই করেছিল। আর তাতেই ফাঁদে পড়ে খুঁইয়েছে সিরিজটা। বাবর আজমদের তাদের ঘরের মাঠে ধবলধোলাই করার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে টিম টাইগার্সের। দর্শক প্রত্যাশার চাপও বেড়েছে। এবার ভারতকে তাদের মাটিতেই হারানোর মিশন। যে চ্যালেঞ্জটা নিতে চান জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ।
ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্ট ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলার লক্ষ্যে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের বিমান ধরবে বাংলাদেশ। কোচরাও আসবেন ১২ তারিখে। তার আগে স্থানীয় কোচদের অধীনে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন ক্রিকেটাররা। সকাল থেকে ঘাম ঝরানো অনুশীলন শেষে কাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন মিরাজ। ভারত সিরিজ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাকে বেশ কয়েকবার ‘ফাইট’ শব্দটা উচ্চারণ করতে শোনা যায়।
এই ফাইট দিতে গিয়ে সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ পড়তে পারে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখুন, টেস্ট ক্রিকেটে সব সময়ই চ্যালেঞ্জ থাকে। প্রত্যেক সেশন, প্রত্যেক বল, সবটাই চ্যালেঞ্জ। ব্যাটসম্যান, বোলার সবার জন্য।’ তিনি যোগ করেন, ‘কোনো সফরের আগে নির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা করতে পারি না, চাপ হয়ে যায়। পাকিস্তান সিরিজের আগেও ভাবিনি ম্যান অব দ্য সিরিজ হব। দলের জন্য যেন খেলতে পারি, ভালো খেলতে পারি সেই চেষ্টা ছিল। প্রত্যাশা বেশি হলে চাপ হয়ে যাবে। স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছি।’
টেস্ট র্যাংকিংয়ের দুই নম্বর দল ভারত। নিজেদের মাঠে তারা সব সময়ই সেরা। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো টেস্ট সেরা দলও তাদের মাটিতে এসে চোখের জল নাকের জল এক করে ফেলে। তাদের মাটিতে কীভাবে তাদের মোকাবেলা করা যাবে জানতে চাইলে মিরাজের জবাব, ‘ভারত অবশ্যই ভালো দল। ওদের বোলাররা অনেক ভালো। ব্যাটসম্যানরাও অনেক ভালো। ওদের যে উইকেটটা থাকে...সেখানে আমরা আগে খেলেছি। আমাদের অভিজ্ঞতা আছে উইকেটের আচরণ সম্পর্কে। আমার মনে হয় সেখানে উইকেট অনেক ভালো থাকবে। আমরা যেভাবে খেলছি, সেভাবে যদি থাকি, ফলাফল চিন্তা না করে যদি পারফর্ম করার চিন্তা করি, তাহলে ভালো ফল আসবে।’
পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে হারানোর পর বাংলাদেশ দলকে নিয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে সমর্থকদের। ভারত সিরিজে তাই প্রত্যাশা বেড়েছে। সেটা অজানা নয় মিরাজের, ‘আমরা যখন ভালো খেলি, তখন সবারই প্রত্যাশা বাড়ে। আমাদের ভালো খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি তা করতে পারি, আমরা নিজেদেরও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব। আমরা যেহেতু পাকিস্তান সিরিজটা ভালো করেছি, এই সিরিজের সঙ্গে খুব বেশি পার্থক্য নেই। পারফর্ম করছি, সবাই ভালো ফর্মে আছে। সবাই যদি ভারতেও ভালো ফর্মে থাকে, তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু আশা করা যাবে।’
ভালো খেললে আশা বাড়ে জানিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আশা তো সবার কাছে সব সময়ই থাকে। আশা তো দেখেন আমরা যখন ভালো খেলি, ম্যাচ জিতি, তখন এই আসাটা সবারই বাড়ে। এক-দুজনের না সবারই বাড়ে। সবারই আশা থাকবে তো, সেই আশার জায়গা আমাদের ভালো খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি, আমরা যদি পারফর্ম করতে পারি নিজেদের আশাটা ভালো থাকবে এবং রেজাল্টও আসবে।’
রাওয়ালপিন্ডিতে তাকে আট নম্বরে ব্যাট করতে দেখা গেছে। তবে তিনি চান আরও ওপরে ব্যাট করতে। গণমাধ্যমের সঙ্গে কাল আলাপকালে সেটা চেপে রাখেননি। মিরাজ বলছিলেন, ‘বেসিক্যালি আপনি যেটা বললেন যে, আট নম্বরে ব্যাটসম্যান হতে চাই না যে কারণ। আট নম্বরে ব্যাটিং করা অনেক প্রেশার। আবার দেখেন যে এমন সিচ্যুয়েশন থাকে যে, সব ব্যাটাররা ফেল করেছে, তখন আমার প্রেশারে ব্যাটিং করতে হয়। জিনিসটা ওই ইঙ্গিতেই বলেছিলাম যে, আট নম্বরের সেরা খেলোয়াড় হতে চাই না। ওপরের দিকের সেরা খেলোয়াড় হতে চাই, জিনিসটা আসলে এ রকমই ছিল। তিনি যোগ করেন, ‘আট নম্বর ব্যাটার হতে চাই না, অনেক প্রেশার। অনেক পরিস্থিতি এমন থাকে, দল অনেক ভালো খেলেছে, এরপর আট নম্বরে নামতে হয়। এমনও হয়, সবাই ব্যর্থ, তখন চাপ নিয়ে ব্যাটিং করতে হয়। আট নম্বরে সেরা হতে চাই না, ওপরের দিকে সেরা হতে চাই।’
প্রথম সাক্ষাতেই পাকিস্তানের কিংবদন্তি মুশতাক আহমেদকে মনে ধরেছে মিরাজের, ‘মুশতাক আহমেদের সঙ্গে প্রথম কাজ করছি। আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে, মানুষ হিসেবে অনেক অনুপ্রেরণামূলক কথা বলেন এবং খেলোয়াড়দের সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেন। খারাপ সময়ে খেলোয়াড়দের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। এই জিনিসগুলো খুব ভালো লেগেছে।’ পাকিস্তান সিরিজ জয়ের পর দলের সবাই মানসিকভাবে চাঙ্গা আছে। এ নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘সবাই অনেক খুশি আছে, ভালো শেপে আছে। মানসিকভাবে ফ্রি না থাকলে আপনি কখনোই ভালো খেলতে পারবেন না। সব চাপ নিয়ে একা খেলতে পারবেন না। এজন্যই সবার হেল্প দরকার খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচ।’
দেশের ক্রিকেটে গত ১৮ বছর ধরে তারকা সাকিব আল হাসান। তার বিকল্প এখনো খুঁজে পায়নি বিসিবি। তবে মিরাজের দাবি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের বিকল্পও টিম টাইগার্সে আছে। বলেছেন, ‘প্রত্যেক দলেই রিপ্লেসমেন্ট আছে। সবাই তো আর সারা জীবন খেলবে না। সাকিব ভাই যখন থাকবেন না, হয়তো আমার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’
