ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ১১ মাস ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলার পর থেকে সেখানে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে তেল আবিব। প্রতিদিনই অবরুদ্ধ উপত্যকাটির বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। যার মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু। তবে যুদ্ধের এই ভয়াবহতার কারণে সবচেয়ে হুমকির মুখে পড়েছে শিশু ও তরুণরা। যুদ্ধের বিভীষিকার মুখে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে গাজার একটি পুরো প্রজন্ম।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন শিক্ষাবর্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত সোমবার, কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরার কোনো সুযোগ নেই গাজার শিক্ষার্থীদের। ১১ মাস ধরে চলা যুদ্ধে গাজার সব স্কুল বন্ধ। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামাসের হামলার পর থেকেই গাজার সব স্কুল বন্ধ রয়েছে। ইসরায়েলের হামলায় ৯০ শতাংশ স্কুল একেবারে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে স্কুলে নিবন্ধিত ৬ লাখ ২৫ হাজার শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর ছয় বছর বয়সী আরও ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীর এ বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল।
এখনো যেসব স্কুল ভবন কিছুটা অক্ষত আছে, সেগুলো বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করেছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি ত্রাণবিষয়ক সংস্থা। সংস্থাটির যোগাযোগ পরিচালক জুলিয়েট তৌমা বলেন, ‘শিশুরা যত বেশি সময় স্কুলের বাইরে থাকবে, তাদের শেখার ইচ্ছা তত কমে যাবে। শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যাবে। তারা বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগের মতো শোষণের শিকার হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত তারা একটি হারিয়ে যাওয়া প্রজন্মে পরিণত হওয়ার প্রবল ঝুঁকিতে পড়বে।’
গত মাসে, ইউএনআরডব্লিউএ তাদের ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে একটি ব্যাক-টু-লার্নিং প্রোগ্রাম চালু করেছে। সেখানে শিক্ষকরা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে সহায়তা করার জন্য পাঠ্যক্রমের বাইরে নানা ধরনের উৎসাহমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গাজায় এখনো যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ নেই। এরই মধ্যে গাজার বাসিন্দাদের তাদের বাড়িঘর ছেড়ে সরে যাওয়ার নতুন নতুন নির্দেশ দিয়েই যাচ্ছে। ফলে আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বিশ্বের সবচেয়ে অবহেলিত জনপদের শিশু ও কম বয়সীরা।
