ভারতে পেস বোলারদের কঠিন চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:০০ এএম

বাংলাদেশের পেসাররা সবশেষ যে ইনিংসে বল করেছেন, সেটার প্রাপ্তি ছাড়িয়ে গেছে প্রত্যাশাকেও। রাওয়ালপিন্ডিতে, শেষ টেস্টে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ১০ উইকেট ভাগাভাগি করেছেন একাদশের তিন পেসার মিলে। এই সাফল্য একদিকে যেমন আশা বাড়িয়ে দিচ্ছে, তেমনি ভারতের উইকেট এবং টেস্ট ম্যাচে কোকাবুরা বলের পরিবর্তে এসজি বলের ব্যবহার সেই আশায় লাগাম পরাচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ন বা অস্ট্রেলিয়ার পার্থ না হলেও রাওয়ালপিন্ডির উইকেট সহায়ক ছিল পেস বোলিংয়ের জন্যই। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ, দুই তরফেই সফল পেসাররা। এই মাঠের ইতিহাস আর পরিসংখ্যান বলে পেসাররাই এখানে স্পিনারদের চেয়ে বেশি সফল, এই মাঠে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় ওপরের দুটো নাম ওয়াসিম আকরাম আর ওয়াকার ইউনুস। চেন্নাই চরিত্রে একদমই ভিন্ন। পুরোপুরি স্থলভাগ পরিবেষ্টিত শহর রাওয়ালপিন্ডি, অন্যদিকে চেন্নাইর চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের পাশেই হচ্ছে মারিনা সৈকত। সাগর মাত্র কয়েকশ গজ দূরে। তাই মাটি খানিকটা সোঁদা, বিকেলের দিকে সাগরের দিক থেকে বয়ে আসা হাওয়া প্রভাব রাখে বোলিংয়ে। সুইংটা এই স্টেডিয়ামের উইকেটে কমই হয়। ‘স্পোর্টসস্টার’-এর হয়ে কাজ করার সুবাদে চেন্নাইতে লম্বা সময় থাকা এক ভারতীয় সাংবাদিক জানালেন, সুইং সামলানো শিখতে দীনেশ কার্তিক নাকি চলে যেতেন চেন্নাই থেকে বেঙ্গালুরু! শুধু এই সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটারই নন, রাজ্য পর্যায়ের অনেক ক্রিকেটারই নাকি সুইং সামলানোর অনুশীলনে পাশের রাজ্য কর্নাটকে চলে যেতেন কারণ চেন্নাইতে বল নাকি সুইং করে না।

চেন্নাইর মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা আছে হাসিবুল হোসেন শান্তর। ১৯৯৮ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই সাবেক পেসার। দেশ রূপান্তরকে শান্ত জানিয়েছেন, এখানে পেসারদের মূল চ্যালেঞ্জটা হবে পুরনো বলে বোলিং করা, ‘এখানে যে বোলার যত বুদ্ধি খাটিয়ে বল করতে পারবে সেই ভালো বোলার। চেন্নাইতে আমি খেলেছি, এখানে লাইন-লেন্থটা ধরে রাখা খুব জরুরি। সুইং করাতে পারলে ভালো। এখানে পুরনো বলের অনেক কাজ আছে, বলের একটা পাশের চমক ধরে রাখা গেলে রিভার্স সুইংটা হবে। নির্ভর করবে বোলার যারা খেলে, মনে হয় তাসকিন আর নাহিদ রানাই খেলবে; হাসান মাহমুদকে মনে হয় না একাদশে দেখবে। যারাই খেলবে, আমার মনে হয় তাদের চেষ্টা থাকবে ব্যাটসম্যানকে সামনে খেলানোর। পেসারদের লক্ষ্য হওয়া উচিত যতটা সম্ভব

কৃপণতার সঙ্গে বোলিং করা যায়। যত কম রান দেওয়া যায়, তাহলে সুযোগ থাকবে।’ শুধু উইকেট বা বল নয়, পরিবর্তন আসবে ব্যাটসম্যানের মানেও। শান মাসুদ, সৌদ শাকিলদের বদলে সামনে থাকবেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা; যারা এই সময়ের তো বটেই সর্বকালেরই সেরাদের তালিকায়

থাকবেন। শান্ত এখানে ফিল্ডারদের কাছ থেকে উপযুক্ত সহায়তাও আশা করছেন, ‘এখন কথা হচ্ছে ব্যাটসম্যানরা সুযোগ তো দেবেই। পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যেভাবে আমরা ক্যাচ ছেড়েছি, সেভাবে ভারতের বিপক্ষে হলে তো জেতাটা কঠিন। উইকেট নেওয়ার কাজটা শুধু বোলারদের নয়, ফিল্ডারদেরও সতর্ক থাকতে হবে। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে আমরা যেটা ভয় পাচ্ছি সেটা হয়তো হবে না।’

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলেছে ৩টি টেস্ট। একবারও কোনো ইনিংসে ভারতকে অলআউট করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। সেরা সাফল্য ইডেনের গোলাপি বলের টেস্টে ভারতের ৯ উইকেট নেওয়া, ৩৪৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিলেন বিরাট কোহলি। এই রানটাও দুই ইনিংস মিলিয়ে করতে পারেনি বাংলাদেশ। তারপরও ভারতে বাংলাদেশের পেসারদেরই সাফল্য তুলনামূলকভাবে বেশি, হায়দ্রাবাদে তাসকিন পেয়েছিলেন মাত্র ১ উইকেট তবে সবশেষ ২০১৯ সালের সফরে এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ রাহি আর আল আমিন হোসেন মিলে ভারতের দুই ইনিংসে নিয়েছিলেন ১৩ উইকেট। এবারের সফরের আগে পেস বোলারদের নিয়ে কাজ করা পেস বোলিং কোচ তারেক আজিজ বেশ আশাবাদী, ‘আমাদের বোলারদের আমি মনে করি বিশ্বমানের। তাদের সেই ধরনের সব গুণ আছে। এখন ম্যাচে তারা সেটা করতে পারলে হয়। আর এবার অনুশীলনও খুব কৌশলী হচ্ছে। ধরা যাক সামনে মুশফিককে দেখে বোলাররা বল করছে, কিন্তু আসলে মুশফিক নয় তারা বল করছে মুশফিকের জায়গায় কোহলিকে মনে করে। পেসাররা খুবই আত্মবিশ্বাসী’।

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্পিন খেলতে পারেন, এমনটাই বলা হয় ভারতের ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলার দক্ষতা নিয়ে। চেন্নাইতে দুই দলই নিঃসন্দেহে স্পিনারদের ওপরই বেশি ভরসা করবে সাফল্যের আশায়। তবে কানপুরের গ্রিনপার্ক শুরুতে খানিকটা পেস সহায়ক  থাকে, এমনটাই হয়ে আসছে। বল বদলাবে, প্রতিপক্ষ বদলাবে, বদলে যাবে ২২ গজে প্রতিপক্ষে দাঁড়ানো ব্যাটসম্যানের মানও। এত সব পরিবর্তনের  সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করাটাই বাংলাদেশের পেসারদের বড় চ্যালেঞ্জ, যাদের সাফল্যের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে এই সিরিজে বাংলাদেশ দলের ভাগ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত