ছুটির দিনেও কর্মচঞ্চল গাজীপুরের কারখানা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:১৬ এএম

ছুটির দিনেও হরদম কাজ চলছে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোয়। গতকাল শুক্রবার পুরো জেলায় কারখানার প্রায় ৩০ ভাগ চালু ছিল। তবে জেলার কোথাও কোনো কারখানায় অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। অবশ্য বেশিরভাগ কারখানার সামনেই ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছিল সতর্কাবস্থান। জেলা জুড়ে সকাল থেকে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন তৎপর। অবশ্য জেলার যে আটটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেগুলো বন্ধই আছে।

বিভিন্ন দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক কারখানাগুলোয় ছিল স্থবিরতা। উৎপাদন কমে যাওয়ায় কারখানা কর্র্তৃপক্ষের শিপমেন্ট নিয়ে ছিলেন চরম অনিশ্চয়তায়। সেই সংকট কাটিয়ে নিতে গতকালও অনেক কারখানা খোলা রাখা হয়।

গাজীপুর শিল্প-পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতেই মালিকপক্ষের লোকজন গতকালও কারখানা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেন। পুরো জেলায় কারখানার প্রায় ৩০ ভাগ চালু রয়েছে। তবে যে আটটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেগুলো বন্ধই আছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর গাজীপুর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে সব মিলিয়ে নিবন্ধিত কারখানা রয়েছে ২ হাজার ৬৩৩টি। এর বাইরে অনিবন্ধিত কারখানা আছে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি। এসব কারখানায় প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক কাজ করেন।

কাজে ফেরার আহ্বান বিজিএমইএ সভাপতির : তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা নিরসনে ঢাকার আশুলিয়ায় শ্রমিক-জনতার সমাবেশ হয়েছে। গতকাল বিকেলে জামগড়া এলাকার ফ্যান্টাসি কিংডম মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত এক বছরে নানা সমস্যার কারণে প্রায় ২৭০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এরপরও বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকে আছে অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন সচল ছিল বলে। তাই আপনারা কারখানা চালু রাখেন। কারখানা চালু থাকলে আপনি বাঁচবেন, আমরা বাঁচব, দেশ বাঁচবে।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত