আগামী কয়েক দশকের মধ্যে চীনে বয়োজ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠীর হার বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় হ্রাস পাবে তরুণদের সংখ্যা। আর এমন পরিস্থিতিতে চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে নতুন জন্মহার অনেকটাই নিম্নগামী। দেশটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সেখানকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্য খাত ও সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থার ওপর।
গত শতকের পঞ্চাশের দশকে সবশেষ চাকরিজীবীদের অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা বাড়িয়েছিল চীন। এবার দেশটিতে বয়স্ক জনগোষ্ঠী বেড়ে যাওয়া এবং পেনশন তহবিলের অর্থসংকটের কারণে চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরুষ কর্মীদের অবসরের বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ৬৩ বছর করা হবে। নারীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে সেখানে ৫০ ও ৫৫ বছরের দুই ধরনের অবসরের বয়সসীমা রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এটি হবে যথাক্রমে ৫৫ ও ৫৮ বছর। চীনে বর্তমানে চাকরিজীবীদের অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুসারে নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী বছর ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তী ১৫ বছরে প্রতি কয়েক মাস অন্তর উত্থাপিত চাকরিজীবীদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট এই বয়সের আগে কাউকে অবসরে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হবে না। যদিও চীনে চাকরিজীবীরা তাদের অবসরের মেয়াদ তিন বছরের বেশি বাড়াতে পারেন না। ২০৩০ সাল থেকে পেনশন পাওয়ার জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও বেশি অবদান রাখতে হবে। আর ২০৩৯ সাল থেকে পেনশন পেতে অন্তত ২০ বছরের অবদান রাখতে হবে কর্মীদের।
চাকরিজীবীদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর এবং পেনশন নীতির সমম্বয় করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গড় আয়ু, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, জনসংখ্যা কাঠামো, শিক্ষার স্তর ও চীনে কর্মশক্তি সরবারহের বিষয়ক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনাটি নেওয়া হয়েছে। এর আগে করোনা মহামারীর সময়ে দেশটির সরকার পরিচালিত একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্স জানিয়েছিল, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশটির রাষ্ট্রীয় পেনশন তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে যাবে।
