যুবলীগ নেতা পালানোর পর বন্ধ হলো টোল আদায় 

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:২১ এএম

ফেনীর সোনাগাজীতে এলাকাবাসীর দাবি উপেক্ষা করে সাহেবেরঘাট সেতু থেকে দীর্ঘদিন টোল আদায় করেছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজিজুল হক হিরন ও তার সহযোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, ফেনীর সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর সহযোগিতায় তারা টোল আদায় করতেন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ক্ষুব্ধ জনতা টোলবক্সে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে টোল আদায় বন্ধ করে দেন। ওই দিনই বিকেলে জনরোষের ভয়ে পালিয়ে যান যুবলীগ নেতা হিরণসহ তার সহযোগীরা। এরপর থেকে সেতুতে টোল আদায় বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গ্রামীণ এ সেতুটি ২০১৯ সালে উদ্বোধনের পর টোল ছাড়া অবাধে চলাচল করতেন সাধারণ মানুষ। নদীর উপকূলে নিরিবিলি পরিবেশ হওয়ায় ফেনী ও নোয়াখালীর বিপুলসংখ্যক মানুষের বিনোদনের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয় সেতুটি। ২০২১ সালে সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর মামাতো ভাই পরিচয় দেওয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও আমিরবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক হিরন সেতুতে টোল আদায় শুরু করেন। তার পক্ষ হয়ে টোল আদায়ের দেখভাল করতেন যুবলীগ পরিচয়ধারী আব্দুর রাজ্জাক সেন্টু। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং জনসাধারণ বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবাদ করলেও ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রশাসনের সহযোগিতায় টোল আদায় অব্যাহত রাখে। পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে টোল আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হলে টনক নড়ে তাদের।

মিজানুর রহমান সেলিম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘গ্রামীণ সেতু হওয়াতে জনসাধারণ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের তাগিদে কেউ কেউ প্রতিদিন ১০-১২ বার সেতু দিয়ে চলাচল করতেন। যতবার সেতু ব্যবহার করতেন, ততবার তাদের টাকা দিতে হতো। এ নিয়ে সেতু ব্যবহারকারীদের সঙ্গে টোল আদায়কারীদের বিরোধ লেগেই থাকত। এ ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলেই প্রশাসন দিয়ে হয়রানি করা হতো।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে যুবলীগ নেতা আজিজুল হক হিরনের মোবাইলফোনে কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইউরোপের কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন।

ফেনী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকোশলী বিনয় কুমায় রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাহেবেরঘাট সেতুতে টোল আদায় বন্ধ রয়েছে। এ সেতুতে টোল আদয়ে বর্তমানে কোনো ইজারার অনুমোদন নেই। তবে আগের টোল আদায়ের অনুমতি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত