প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি বিদ্বেষমূলক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। অতীতেও নানা সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করতে ট্রাম্প ‘আক্রমণাত্মক ভাষা’ ব্যবহার করেছেন। আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। এমনকি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরও এটিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দেশটির ৬০তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় বিদ্বেষমূলক শব্দের ব্যবহার অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এ তথ্য।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কথার লড়াই চালাচ্ছেন দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহারের পর দলীয় মনোনয়ন পান কমলা। প্রার্থী হিসেবে কমলার নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষ শিবির তার সমালোচনায় গলা চড়ায়। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দুই দলের প্রার্থীসহ তাদের প্রতিনিধিদের টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্য এবং বিভিন্ন মন্তব্যের প্রায় ১২০ মিনিটের রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছে এএফপি। গত ১ মে থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যকার এসব বক্তব্য-মন্তব্যকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর মনোযোগে চিড় ধরানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছেন রিপাবলিকানরা।
বিশ্লেষকদের মতে, কমলার বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের নেতিবাচক ও আগ্রাসী সমালোচনার ভাষার ব্যবহার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নির্বাচনে জো বাইডেনের সমালোচনা করতে গিয়ে ‘কুটিল’, ‘খারাপ’, ‘উদ্যমহীন’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন রিপাবলিকানরা। তবে কমলার ক্ষেত্রে সে আগ্রাসীভাব বহুগুণে বেশি প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন রিপাবলিকানরা। এএফপি বলছে, বাইডেনের তুলনায় কমলার বিরুদ্ধে ৩০ শতাংশ বেশি নেতিবাচক ভাষায় প্রচারণা চালাচ্ছে বিরোধী দল।
কমলার বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত সীমান্ত’ নীতির অভিযোগ তুলে তার কড়া সমালোচনা করে আসছে রিপাবলিকানরা। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপাবলিকান সমাবেশগুলোয় কমলার বিরুদ্ধে ‘সীমান্ত জার’ শব্দটি ৮০ বারের বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এমন উদার নীতির ফলে সীমান্ত দিয়ে লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসী স্রোতের মতো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।
ট্রাম্প এবং তার সমর্থকরা টেলিভিশনের পর্দায় কমলার বিরুদ্ধে ‘অপরাধ’, ‘ধ্বংস’, ‘খারাপ’ এমন নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করছেন। এমনকি বাইডেনের তুলনায় কমলাকে আরও বেশি উগ্র হিসেবে চিহ্নিত করতে কমলাকে ‘সমাজতন্ত্রী’ ও ‘মার্ক্সবাদী’, ‘বামপন্থি’ ও ‘উগ্র’ হিসেবে বর্ণনা করছে রিপাবলিকানরা। এমনকি ট্রাম্প কমলাকে ‘কমরেড’ বলেও সম্বোধন করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প অন্তত ৩০ বার কমলার বিরুদ্ধে এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। এএফপির বিশ্লেষণে দেখা যায়, কমলাকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে যেসব শব্দ ব্যবহার হয়, সেগুলোর মধ্যে ‘কমরেড’ সপ্তম অবস্থানে আছে।
তবে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা ইতিবাচক শব্দের ব্যবহার বেশি করছে। কমলা প্রার্থী হওয়ার পর ‘স্বাধীনতা’, ‘বিজয়’, ‘উচ্ছ্বাস’-এর মতো শব্দগুলো টক শোতে ৩০ শতাংশ বেশি এবং নির্বাচনী সমাবেশ ৭০ শতাংশ বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। কমলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ‘উদারপন্থি’ শব্দের ব্যবহার। আগের তুলনায় এই শব্দের ব্যবহার সমাবেশে আটগুণ এবং টক শোতে ছয়গুণ বেশি হয়েছে। এমনকি কমলাকে নিয়ে তাদের আশার বহিঃপ্রকাশে ‘লড়াই’, স্বাধীনতা’ ও ‘বিশ্বাস’ শব্দের ব্যবহার করেছে ডেমোক্র্যাটরা।
এর আগে, ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধেও প্রতিহিংসামূলক শব্দ ব্যবহার করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতে কট্টর জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তাও বেড়েছিল। সে আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এবারও সেই পুরনো পন্থাই বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এবার ট্রাম্পের জন্য সফলতা পাওয়াটা খুব একটা সহজ হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দিনশেষে বিজয়ী হাসি কে হাসবেন সেটি জানতে অপেক্ষা আর অল্প কিছু দিনের।
