পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে হয়েছেন বোঝা

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:৪০ এএম

পরিবারের হাল ধরতে নেত্রকোনা থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মিষ্টির দোকানে কাজ নেন আকাশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার পথে পুলিশের গুলিতে পা হারান আকাশ। পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে নিজেই হয়ে গেছেন পরিবারের বোঝা। ধার-দেনা করে বিদেশ যাওয়ার জন্য এজেন্টের কাছে জমা দেওয়া টাকায় চিকিৎসা করিয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে অসহায় পরিবারটি।

অভাব-অনটনের পরিবারে লেখাপড়া বেশিদূর করতে পারেননি আকাশ। সাত ভাই-বোনের সংসারের সবার বড় তিনি। বড় পরিবারের ব্যয়বার বহন করা দিনমজুর বাবার জন্য খুবই কষ্টের ছিল। তাই উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় পরিবারের হাল ধরতে কাজ নেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডের বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভা-ারে। সাড়ে সাত হাজার টাকা বেতন ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হয় মালিকের দোকানে। এরপর ছোট ভাইকেও সিদ্ধিরগঞ্জের আরেকটি দোকানে কর্মচারীর চাকরি দেন।

পরিবারের সবার পরামর্শে ঠিক করেন সৌদি আরব যাবেন। আত্মীয় স্বজনদের অনেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। আকাশ পাসপোর্ট করে সব কাগজপত্র এজেন্টের কাছে জমা দেন। এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে গত ১৯ জুলাই মালিক দোকান বন্ধ করতে বলেন। দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার পথে রাস্তায় পুলিশের গুলিতে আহত হন আকাশ। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তীব্র যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছিলেন আকাশ। এরমধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার তাকে পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানান, ‘দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় পা কেটে ফেলতে হবে।’ উপায়ান্তর না পেয়ে আকাশের এক পা  কেটে ফেলতে হয়। দেড় মাস চিকিৎসার পর এখন অনেকটা সুস্থ আকাশ। কিন্তু নিজের ধার-দেনা করে বিদেশ যাওয়ার জন্য জমানো সব টাকাই শেষ। গত ২ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকালে গ্রামে নিজ ঘরের বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসব কথা জানান আকাশ মিয়া।

আকাশের বাবা দুলাল মিয়া জানান, তার কোনো জায়গাজমি নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কষ্ট করে সংসার চালান। সংসারের অভাব দূর করতে ছেলে বিদেশ যেতে চেয়েছিল। কিন্তু গুলি তার এক পা নিয়ে গেছে। কারও কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। তবে ডাক্তারের কাছে গিয়ে শুনলাম হাসপাতালে থেকে যারা এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা সহায়তা পাচ্ছেন। সরকার যদি আকাশের জন্য একটা ব্যবসার ব্যবস্থা করে দিত তাহলে সে কারও বোঝা হয়ে থাকত না।

মদন সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। আবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত