রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেলে ডামি ফুয়েল বা অবিকৃত জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি আরেকটি মাইলফলক অর্জনের পথে যাত্রা শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আকার, আকৃতি, ওজন, ম্যাটেরিয়াল বিবেচনায় ডামি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি আসল ফুয়েল অ্যাসেম্বলির সম্পূর্ণ কপি। কিন্তু এতে কোনো পারমাণবিক জ্বালানি থাকে না। এই ফুয়েল লোডিংয়ের পর রি-অ্যাক্টরের সার্কুলেশন ফ্ল্যাশিং, কোল্ড এবং হট টেস্ট সম্পাদন করা হবে। এই টেস্টগুলোর সফলতার ওপর নির্ভর করে রি-অ্যাক্টরের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য অপারেশন।
গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ডামি ফুয়েল লোডিংয়ের কাজ শেষ হতে লাগবে প্রায় দুই সপ্তাহ। এটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই এটি আসল পারমাণবিক জ্বালানি ‘ইউরেনিয়াম দন্ড’ লোড করার জন্য প্রস্তুত হবে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প।
পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর পাড়ে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ প্রকল্পটি দেশের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো এটি। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরমাণু শক্তি কমিশন বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর রাশিয়ার রসাটম করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা।
রসাটমের কর্মকর্তারা জানান, ডামি ফুয়েল লোডিং চলাকালে ১৬৩টি ডামি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি এবং ১১৫টি কনট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন সিস্টেম এবসর্বার রড লোড করা হবে। ডামি ফুয়েলের সাহায্যে রি-অ্যাক্টরের সব প্যারামিটার যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর আসল ফুয়েল লোড করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে এতমস্ত্রয়এক্সপোর্ট, এটমটেকএনার্গো এবং রসএনার্গোএটমের বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে এএসইয়ের বাংলাদেশ প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেইরি বলেন, ‘রসাটম রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি করপোরেশন। পার্টনার দেশগুলোয় নতুন শিল্পের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে তার দক্ষতা ও বিশাল অভিজ্ঞতার প্রমাণ রেখে চলেছে। রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ এবং এর স্টার্টআপ ও অন্যান্য এডজাস্টমেন্ট কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এই ইউনিটটির স্টার্টআপের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার উন্নয়নের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ লাভ করবে।’
এতমএনার্গো-বাংলাদেশ শাখার পরিচালক ডেনিস মাজলভ জানান, ‘ডামি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লোডিংয়ের কার্যক্রম ২৪/৭ ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। রিফুয়েলিং মেশিনের সাহায্যে রি-অ্যাক্টরে একটি ডামি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লোডিংয়ে গড়ে ২৫ মিনিট লাগে। ডামি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লোডিংয়ের পর আমরা সার্কুলেশন ফ্ল্যাশিং, কোল্ড এবং হট টেস্টের জন্য রি-অ্যাক্টরকে প্রস্তুত করব।’
রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রতিটি ইউনিটে স্থাপিত হবে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর-১২০০ রি-অ্যাক্টর, যা সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম।
২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বরে উদ্বোধনের পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে চলছে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর এবং এর পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট করে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।
