গলছে হিমবাহ বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৫৪ এএম

ছয় ঘণ্টা ধরে খাড়া পথ বেয়ে প্রায় মেঘলগ্ন ত্রিভুজাকৃতির কুঁড়েঘরে পৌঁছালেন গুলবারা ওমোরোভা। কিরগিজ পর্বতমালায় এই কাঠের কুঁড়েঘরের পাশে এক ধূসর পাথরের স্তূপের কাছে হেঁটে যান তিনি। কয়েক বছর আগেও এই স্থানটিতে একটি হিমবাহ থাকার স্মৃতিচারণ করেন। হিমবাহবিজ্ঞানী ওমোরোভা কুঁড়েঘরটিকে একটি বিজ্ঞানাগার হিসেবে ব্যবহার করেন।

অ্যাডিজিন গ্লেসিয়ার থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী এই গবেষক সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মিটার উচ্চতায় চীন, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তা জুড়ে বিস্তৃত সুউচ্চ তিয়ান শান পর্বতমালার বিশাল বিশাল চূড়া পরিবেষ্টিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। অঞ্চলটি হাজার হাজার হিমবাহের সূতিকাগার। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব হিমবাহ উদ্বেগজনক হারে গলে গেছে। এরই মধ্যে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত মধ্য এশিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ।

এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হিমবাহবিজ্ঞানী ওমোরোভা। জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর সঙ্গে হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি রেকর্ড করছেন তিনি।

ওমোরোভা বলেন, ‘৮ থেকে ১০ বছর আগে এখানে তুষার ও হিমবাহ দেখা যেত। কিন্তু গত তিন-চার বছরে এটি একেবারেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। এখন কোনো তুষার নেই, নেই কোনো হিমবাহ।’

মধ্য এশিয়া, বিশেষ করে চরম আবহাওয়া বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে। সম্প্রতি এ অঞ্চলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এখানকার বেশ কিছু স্থলবেষ্টিত অঞ্চল এরই মধ্যে মারাত্মক পানির ঘাটতি চলছে। তাই এ অঞ্চলের মানুষদের জন্য হাজার হাজার হিমবাহের গলে যাওয়া একটি বড় ধরনের হুমকিই বটে।

হিমবাহ এ অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এখানকার জলাস্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। আর এদিকে এখানকার অতিপ্রয়োজনীয় মিঠা পানির মজুত এখন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত